স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: কাশ্মীর থেকে সোমবার রাজ্যে ফিরেছেন ১৩৩ জন বাঙালি শ্রমিক। সোমবার বিকেলে জম্মু-তাওয়াই এক্সপ্রেসে কলকাতা স্টেশনে নামেন তাঁরা। কাশ্মীরে পরিস্থিতি অশান্ত বলে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাশ্মীর থেকে নিজের রাজ্যে ফেরায় মুখে হাসি ফুটেছে মুস্তাফাদের। অন্যদিকে তাঁদের মুখেই শোনা গেল এখনও মাসুমুল, আমিনুল ও মনিরুলদের মতো বহু শ্রমিক কাশ্মীরে পড়ে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। ফলে অন্যদের মতো উৎকণ্ঠায় দিন কাটাছে মনিরুলদের পরিবারের।

কুলগাম কাণ্ডের পর রাজ্য সরকার ১৩২ জন শ্রমিককে ফিরিয়ে এনেছেন। কিন্তু এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাশ্মীরেই রয়েছেন। সেই শ্রমিকরা কোথায় কী অবস্থায় রয়েছেন তার কিছুই জানেন না পরিবারের লোকেরা। যার কারনে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ওই সমস্ত পরিবারের লোকেরা।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের কাকাহার গ্রামের মনিরুল মাসুমুল ও আমিনুলরা মাস ছয়েক আগে কাশ্মীর থেকে ফিরে আসেন। পরিবারের অভাব মেটাতে দিন ১৫ আগে ফের কাশ্মীরে যান তাঁরা শ্রমিকের কাজ করতে। তাঁদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫দিন আগে অভাবের তাগিদে আমিনুল রহমান তাঁর কিশোর পুত্র মাসুমুল ও ভাগ্না মনিরুলকে সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকের কাজে কাশ্মীরে গিয়েছেন। আমিনুলের স্ত্রী মিনারা বিবি জানিয়েছেন, কাশ্মীরে পৌঁছনোর পরে তাঁদের সঙ্গে আর কোনও রকম যোগাযোগ না হওয়ায় খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। তার উপর সম্প্রতি কুলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার কথা শুনে তাঁদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গিয়েছে।

ইতিমধ্যে সরকারের তৎপরতায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ১১২ জন ফিরে এসেছেন। এঁদের মধ্যে কাকাহার গ্রামের তিন জন থাকলেও স্বামী সন্তান ও ভাগ্নারা নেই দেখে খুবই চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের লোকজন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর একটাই আবেদন সবাইকেই যেন ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন তিনি। সেই সঙ্গে এখানেই তাঁদের জন্য যাতে নতুন কোনও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন সেই অনুরোধও রাখে শ্রমিকদের পরিবার।