কলম্বো: খেলাই তাঁদের পরিচিতি হলেও জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করতে রাজি নন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা। তাই অহেতুক প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানে ক্রিকেট খেলতে যেতে রাজি নন লসিথ মালিঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, দিমুথ করুনারত্নে-সহ শ্রীলঙ্কার প্রথম সারির ১০ জন ক্রিকেটার।

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা এখনও ভুলতে পারেননি সিংহলি ক্রিকেটাররা। অতীতের ভয়াবহ সেই স্মৃতি এখনও টাটকা বলেই মালিঙ্গারা বোঝেন পাক ভূ-খণ্ডে ক্রিকেট খেলতে গেলে জীবন বাজি রাখতে হবে তাঁদের। সেই ঘটনার পর থেকে এক দশক কেটে গেলেও সেই অর্থে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কার্যত ব্রাত্য। জিম্বাবোয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও একবার শ্রীলঙ্কার ক্লাব স্তরের দলকে নিয়ে পাকিস্তান নিজেদের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করেছিল। তবে ঘরের মাঠে প্রথম সারির কোনও দলকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ এখনও আয়োজন করতে পারেনি পিসিবি।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তার আগে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত টি-২০ ও ওয়ান ডে সিরিজ আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছেন এহসান মানিরা। মালিঙ্গারা বেঁকে বসায় পাকিস্তানের সেই স্বপ্ন আবার বিশ বাঁও জলে। নিতান্ত সিরিজ আয়োজন করা গেলেও পুনরায় কার্যত ক্লাব স্তরের দলের সঙ্গেই সরফরাজদের মাঠে নামতে হবে এটা নিশ্চিত।

শ্রীলঙ্কান বোর্ডের নিরাপত্তা আধিকারিকরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক মিলিত হন এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে খুঁটিনাটি বিবরণ দেন। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়ার কথাও বলা হয়। অর্থাৎ পাকিস্তানের নিরাপত্তার আশ্বাস সত্ত্বেও ক্রিকেটাররা চাইলে ওদেশে খেলতে যেতে নাও পারেন, এমন বিকল্প রাখা হয় মালিঙ্গাদের সামনে। বেশিরভাগ ক্রিকেটার সিরিজ থেকে দূরে সরে থাকার বিকল্পটাকেই বেছে নেওয়া শ্রেয় মনে করেন।

ওয়ান ডে ক্যাপ্টেন দিমুথ করুনারত্নে ও টি-২০ অধিনায়ক মালিঙ্গা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা পাকিস্তানে খেলতে যাবেন না। অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পাক সফর থেকে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে খেলতে যেতে রাজি হননি নিরোশন ডিকওয়েলা, কুশল পেরেরা, ধনঞ্জয়া ডি’সিলভা, থিসারা পেরেরা, আকিলা ধনঞ্জয়া, সুরঙ্গা লকমল ও দিনেশ চাঁদিমল। কুশল মেন্ডিস এমনিতেই চোটের জন্য নির্বাচকদের বিবেচনায় নেই পাক সফরে।