স্টাফ রিপোর্টার, বারাসাত: ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে জমি আন্দোলনে নেমেছে কৃষকেরা। উত্তর ২৪ পরগনার আশোকনগর কল্যানগড় পুরসভার, বাইগাছি মৌজায় প্রায় তিনশো জন কৃষক এই আন্দোলন শুরু করেন। বাইগাছি মৌজায় ইতিমধ্যেই ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ পেয়েছে। ফলে এগারো একর জমি অধিগ্রহন করেছে তারা। এদিকে, ১৯৪৯ সাল থেকে ওই জমিতে কৃষকরা চাষ করে আসছেন। কিন্তু সেই কৃষকরা এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষতিপূরণ পাননি। ফলে, বুধবার সকাল থেকেই বাইগাছি মৌজার ওই এলাকায় জমি আন্দোলন শুরু করেছেন কৃষকেরা।

কয়েক বছর ধরেই ওএনজিসি’র তরফে অশোকনগর এলাকার বেশ কয়েকটি জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অনুসন্ধানের পর প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ মেলে। জানা গিয়েছে, ওএনজিসি’র প্রধান অফিস দিল্লি থেকে সবুজসংকেত পাওয়ার পরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। পরিক্ষার পরই গতবছর অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমলক্ষ্মী কলোনি এলাকায় খোঁজ মিলেছে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের। প্রথমে পুরসভার কাছ থেকে চার একর জমি নিয়েছিল ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক সম্পদের হদিস পাওয়ার পর, ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ পুনরায় আরও এগারো একর জমির জন্য নতুন করে পুরসভার কাছে আবেদন করে।

কয়েক মাস আগেই পুরসভার তরফে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু, বুধবার সকালে থেকে কিছু বাসিন্দাদের অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয় জটলা। আন্দোলনকারী কৃষকদের দাবি, ও এন জি সি কর্তৃপক্ষ যে জমি অধিগ্রহণ করেছে তাতে কৃষকদের কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। এমনকি, নতুন করে আরও যে জমি অধিগ্রহণ করা হবে সে ক্ষেত্রেও কৃষকদের কোনরকম ক্ষতিপূরণ না দিয়েই এই কাজ করতে চলেছে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ। যদিও কল্যানগড় পুরসভার তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ”গোটা জমি সরকারি জমি, কৃষকরা সেই জমি দখল করে রেখেছিল তবে তাদের যদি কোনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকে তাহলে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।”

কিন্তু, এখনও পর্যন্ত কেউ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, জমি আন্দোলনকারীদের তরফে দাবি করা হয়েছে ১৯৪৯ সাল থেকে এই জমি গুলোতে তারা কার্যত চাষ করে আসছে। কিন্তু, এই জমি অধিগ্রহনের পর কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি তাদের। ওই জমিতে তাদের চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের দাবি, এই কৃষি জমির সঠিক কাগজ থাকা সত্ত্বেও ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোন কথাও বলেনি। তাই তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ বা চাকরি দেওয়া হোক তাঁদের।

এদিন আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, “ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ কল্যানগড় পৌরসভার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আমাদের চাষের জমি অধিগ্রহণ করতে চলেছে। আমরা চাই সরকার দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন মত জমি নিক কিন্তু আমাদের কে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিক। আমাদের পরিবারের সদস্যদের কাউকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিক সরকার। আমরা উদ্বাস্তু হলেও সরকার আমাদের এই জমির পাট্টা দিয়েছিল তাই আমরা চাষ করে দিন কাটাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন আমরা কোথায় যাবো? তাই আমরা আমাদের জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাইছি।”