স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: এবার দেবোত্তর সম্পত্তি গ্রাস করার অভিযোগ উঠল জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। পুরাতন মালদা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকদের ও কর্মীদের একাংশের মধ্যেই এই জমি গ্রাস করার চেষ্টা হয়েছে বলে জমির মালিকের অভিযোগ। গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলাশাসক ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। এতেও সুরাহা না হলে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জমির মালিক।

মালদহ শহরের ফুলবাড়ি এলাকার মনমনসার পরিবার। তাদের বাড়িতেই রয়েছে ঐতিহ্যশালী কার্তিক ও রাধারানীর মন্ডপ। প্রতিবছর কার্তিক পুজোর সময় বিশাল মেলা বসে এই পুজোকে ঘিরে। এই পরিবারের ওয়ারিশ দেবাশিস রায়ের অভিযোগ তাদের এই দেবোত্তর সম্পত্তিতে বেশ কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। বেশিরভাগ জমি পুরাতন মালদহ এলাকায়।

আরও পড়ুন : ক্লাসে ছাত্রীকে চড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দিল শিক্ষক

সম্প্রতি তাঁর নজরে আসে পুরাতন মালদার মোর গ্রাম এলাকায় প্রায় সাত বিঘা জমি বেআইনিভাবে জনৈক রেজিনা বেগমের নামে হস্তান্তর হয়েছে। এরপরে তিনি এনিয়ে জেলাশাসক ও মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ পুরাতন মালদা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রত্যক্ষ মদতেই জমি মাফিয়ারা বেআইনিভাবে তাঁদের জমি হস্তান্তর করেছে।

রেজিনা বেগমের স্বামী আনিসুর রহমান জমি কেনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন তিনি জানতেন না জমিটি দেবোত্তর। জনৈক জাকিরের মাধ্যমে তিনি এই জমিটি পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

এনিয়ে পুরাতন মালদার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুশান্ত চক্রবর্তী বলেন দেবোত্তর সম্পত্তি এভাবে হস্তান্তর করা যায় না। এ বিষয়টি তার জানা নেই। জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক তথা অতিরিক্ত জেলা শাসক পালদেন শেরপা বলেন নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হবে।

আরও পড়ুন : ‘মমতার জন্য বিজেপির দরজা খোলা’, বিধানসভায় এসে বললেন মুকুল

বিজেপির জেলা সহ সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, পুরাতন মালদহের ভূমি সংস্কার দফতরটি ঘুঘুর বাসা। দফতরের আধিকারিকদের সাথে মাফিয়াদের আঁতাতেই এই ঘটনা ঘটছে। আমরা এই নিয়ে আন্দোলনে নামতে চলেছি।

সবথেকে বড় প্রশ্ন যে ভূমি সংস্কার দফতরে মধ্যে দিয়ে এই জমিটি হস্তান্তর হল সেই পুরাতন মালদা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের নজরে বিষয়টি কেন আসেনি। উঠছে প্রশ্ন।