স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: দিন যত এগিয়ে চলেছে তত যেন বিশেষ বিশেষ ‘ডে’-র হিড়িকও বেড়ে চলেছে৷ রোজ ডে, টেডি ডে, চকোলেট ডে-র পাশাপাশি ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে-র জনপ্রিয়তাও কম নয়৷ ফাদার্স ডে কিংবা মাদার্স ডে উদযাপন বা গোদা বাংলায় বাবা মায়ের জন্য বিশেষ কোনও দিন পালন করার প্রয়োজন সেটা যদিও তর্ক সাপেক্ষ৷

তবে এসবের পাশাপাশি একটা কথা বলতেই হয় সোমবার তথা আজ বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস৷ আর এই দিন দেখা গেল এক অভিনব ছবি৷ বৃদ্ধাশ্রমের জন্য ভূমিদান করলেন প্রাক্তন শিক্ষক৷

আরও পড়ুন: ‘নেতাদের সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করুন’, নির্দেশ পুলিশকে

বয়স্ক ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতি ও প্রতিবন্ধকতা ব্যক্তিদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষা সমিতির উদ্যোগে এদিন বয়স্ক ব্যক্তিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতি সভাগৃহে জেলার ৩৫ জন বয়স্ক ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সেই সংবর্ধন সভায় ৭০, ৭৫, ৮৫ বছরের ব্যক্তিদের সঙ্গে ১০৫ বছরের পঞ্চমী পাঠক নামে এক মহিলাও উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার পক্ষ থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের চন্দন ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের একটি করে শাল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

আরও পড়ুন: বিউটি উইথ আউট ব্রেন! ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় একী করলেন বাংলাদেশি সুন্দরীরা

পাশাপাশি সকলে এক সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য ভুরিভোজের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কষ্টের কথা ভেবে একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার জন্য নন্দকুমার পাণিশিঠা গ্রামে ৮০ ডেসিম্যাল জায়গা সংগঠনের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় প্রাক্তন শিক্ষক কালীশঙ্কর সাহু ও তাঁর ভাই বোনেরা। জায়গার কাগজপত্র সংস্থার সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্তের হাতে তুলে দেন ভূমিদাতা কালীশঙ্কর সাহু ও তাঁর ভাই সত্যসাধন সাহু।

ভূমিদানের কাগজপত্র তুলে দেওয়ার পর কালীশঙ্কর ও সত্যসাধনবাবু বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমের দ্বারা বিভিন্ন সময় দেখতাম শুনেও থাকতাম অধিকাংশ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তাঁদের শেষ জীবন খুব কষ্টে আশ্রয়হীন অবস্থায় কাটায়। তাদের কথা ভেবে আমরা ছয় ভাইবোন বাবা স্বর্গীয় গোপালপ্রসাদ সাহু-র নামে একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা করেছিলাম। সংস্থার সম্পাদক যোগেশ সামন্ত মহাশয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের দান গ্রহণ করার অনুমতি দেন। সেই মত আমরা জায়গার কাগজপত্র সংস্থার হাতে তুলে দিই। এত দিন পরে আমাদের মনে যেন শান্তি ফিরে এসেছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদানের ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আজকের দিনে তা করতে পেরে খুব ভাল লাগছে।’’

আরও পড়ুন: “পাকিস্তান আর আরএসএসের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই”

অন্যদিকে, সংস্থার সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত বলেন, ‘‘বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কথা ভেবে সাহু পরিবার প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি জায়গা বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার জন্য দান করেছেন। আমরা তা গ্রহণ করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের পরিবহন, পরিবেশ ও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান শুভেন্দু অধিকারী ও এলাকার অন্যান্যদের সাহায্য ও পরামর্শ নিয়ে বৃদ্ধাশ্রমটি গড়ে তোলা হবে৷’’

আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়া হল না, বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া ভারতের