নয়াদিল্লি: আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে ললিত মোদী ইস্যুকে ফের তুলে এনে মোদীর সরকারের প্যাঁচে ফেলার ছক কষছে কংগ্রেস। এখন ললিত মোদী বিতর্ক খানিকটা ধামাচাপা পড়ে থাকলেও, আসন্ন অধিবেশনে ফের সেই বিতর্কে ঘি ঢেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে চাইছে কংগ্রেস।

আগামী মাসেই বসবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। গত বাদল অধিবেশনেও ললিত মোদীকে বিদেশে পাঠাতে সাহায্য করার অভিযোগে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে টার্গেট করে কংগ্রেস। বাদল অধিবেশন কার্যত ভেস্তে যায়।  কংগ্রেসের অভিযোগ, গত বাদল অধিবেশনের একেবারে শেষ দিনে লোকসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে ললিত-প্রসঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন সুষমা। যদিও কংগ্রেস তা সন্তোষজনক বলে মনে করেনি। তখনও চিদম্বরম দাবি করেছিলেন, ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীকে লেখা তাঁর তিনটে চিঠি প্রকাশ করে দিলেই বোঝা যাবে, মোদী সরকার মিথ্যে বলছে। ইউপিএ জমানায় ললিত মোদীকে দেশে নিয়ে আসার যে চেষ্টা হয়েছিল, মোদী জমানায় তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই হয়নি।

চিদম্বরমের সেই চিঠিই ফাঁস করল কংগ্রেস। দলের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘দু’বছর আগে ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখে চিদম্বরম আর্জি জানিয়েছিলেন, ললিত মোদীকে যেন ভারতে ফেরানো হয়।’’ সুরজেওয়ালার মতে, কৌশলগত ভাবেই মনমোহন সরকার ললিত মোদীকে প্রত্যর্পণ করার কথা বলেনি। ডিপোর্ট করার কথা বলেছিল। কারণ, প্রত্যপর্ণের প্রক্রিয়াটি জটিল। তাতে অন্তত আট-দশ বছর লেগে যেতে পারে। চিঠিতে চিদম্বরম উল্লেখ করেছিলেন, সাম্প্রতিক কালে ব্রিটিশ সরকার প্রায় তিন হাজার ভারতীয়কে এ দেশে ফিরিয়েছে। সেই ভাবেই যেন ললিত মোদীকে ভারতের হাতে তুলে দেয় ব্রিটেন।

সুরজেওয়ালার অভিযোগ, মনমোহন জমানায় ওই প্রয়াস হলেও সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী জেটলি বলেছিলেন, ইউপিএ সরকার ললিত মোদীকে ফেরানোর কোনও চেষ্টাই করেনি। বাস্তবটা আসলে উল্টো। গত বছরই ব্রিটিশ সরকার নতুন আইন করে ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া সহজ করে দিয়েছে। অথচ মোদী সরকারই এ ব্যাপারে কোনও চেষ্টা করছে না। কারণ, তারা চাইছে ললিতকে প্রত্যর্পণ করা হোক। যাতে সেই ছুতোয় আরও আট-দশ বছর ললিত মহানন্দে বিলেতে থেকে যেতে পারেন।

এখন চিদম্বরমের তিন চিঠি ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন পাশের প্রসঙ্গ তুলে অবিলম্বে ললিতকে দেশে ফেরানোর দাবি তুলছে কংগ্রেস। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে দলিত ইস্যু, দেশজুড়ে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট-সহ ললিতগেট ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চাইছে কংগ্রেস।