স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তোৎসবে ছাত্রছাত্রীদের বুকে-পিঠে অশ্লীল শব্দে লেখা গান। নজিরবিহীন এই ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ টিম গঠন করল লালবাজার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে৷ ভাইরাল ছবির সূত্র ধরে তদন্তে নেমেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরাও।জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালতের পরামর্শ নেবে ওই বিশেষ দল। এরপরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দোলের আগেই রবীন্দ্রভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে বসন্তোৎসব পালিত হয়। এটাই তাদের প্রথা এবং ঐতিহ্য। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত থাকে জনসাধারণের জন্য। বিশেষত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পডুয়ারা এই দিন অনায়াসেই এখানে প্রবেশাধিকারের সুযোগ পান। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃহস্পতিবার বসন্তোৎসবে মাততে রবীন্দ্রভারতীতে গিয়েছিলেন হুগলির এক কলেজের চার, পাঁচজন ছাত্রী। হলুদ-লাল শাড়ি, খোঁপায় ফুল – বসন্তের সাজে সেজে ওঠা তরুণীদের আনন্দের মাঝে বিতর্ক উসকে দেয় তাঁদের পিঠের লেখা। সেখানে অশালীন শব্দ প্রয়োগে লেখা ছিল বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতের একটি লাইন। যা ক্যামেরায় ধরা পড়তেই বিতর্কের ঝড় বয়ে যায় সংস্কৃতি জগৎ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এই ঘটনায় সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করে রবীন্দ্রভারতী কর্তৃপক্ষ। পরে জানা যায়, ওই ছাত্রীরা প্রত্যেকেই বহিরাগত। হুগলির একটি কলেজের ছাত্রী তারা। তাদের বাড়ি শ্রীরামপুর ও চন্দননগরে।সবটা স্পষ্ট হওয়ার পর চাপে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নেন ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা।

উল্লেখ্য, অশ্লীলতাকাণ্ডের জেরে ইস্তফা দিয়েছিলেন উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত বলে জানান সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। নৈতিক দায় নিয়ে ইস্তফা দেন উপাচার্য। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV