স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ব্যারিকেডে আছড়ে পড়ল বিজেপি কর্মীরা৷ পুলিশ আর অপেক্ষা করেনি৷ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জল কামানের প্রয়োগ করে পুলিশ৷ তাতেও হতদ্যম হয়নি পদ্ম শিবির৷ জয় স্রীরাম ধ্বনি দিয়ে তখনও চেষ্টা চলছে লালবাজার অভিযানের৷ একপ্রকার বাধ্য হয়েই কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়৷

ব্যারিকেডের সামনে ততক্ষণে বসে পড়েছেন বিজেপি কর্মীরা৷ চলছে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি৷ তবুও ময়দান ছাড়েনি কেউ৷ এতেই নৈতিক জয় দেখছে রাজ্য বিজেপি নেতারা৷ তাদের মতে বাধ্য হয়েই পুলিশ অভিযানের শুরুতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়েছে৷ এতেই বোঝা যাচ্ছে আন্দোলনের তীব্রতা৷

আরও পড়ুন: বেতনবৃদ্ধির দাবিতে বিকাশ ভবন অভিযানে SSK-MSK-Madrasa শিক্ষকরা

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, ‘‘মানুষ যে মমতার বিরুদ্ধে এদিনের আন্দোলনই তা প্রমাণ করে দিল৷ আমরা ময়দানে নেমে লড়াই করছি৷ পুলিশ ভয় পেয়েছে৷ তাই আগবাড়িয়ে কোনও প্ররোচনা ছাড়াই শেল ফাটাল৷’’ আন্দোলনের অভিঘাত সুদূরপ্রসারী বলে দাবি করেন মুরলীধর সেন লেনের প্রাক্তন মসিহা৷

সাংসদ ও বিজেপির রাজ্য মহিলা শাখার নেত্রা লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘ভয় পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাই লালবাজার অভিযানে উপস্থিত সন্দেশখালির নিহতদের পরিবারের উপরও জলকামান ব্যবহার কতে হল পুলিশকে৷ রাজ্যে শান্তি ফেরাতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷’’ সুশাসনের দাবিতে এই ধরণের আন্দোলন বাড়ে বাড়ে হবে বলে অভিযানের সেষে ঘোষা করেন বিজেপির তরফে বাংলার সাংগঠনিক পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়৷

রাজ্যে কলবরে বেড়েছে বিজেপি৷ লোকসভায় আসন বেড়েছে অনেকটাই৷ বাংলায় যে গেরুয়া পালে হাওয়া রয়েছে তা প্রমাণিত৷ ভোটের পরে জোড়াফুল শিবিরের বেশ কয়েকজন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিপিতে৷ বেশ কয়েকটা পুরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের রংও সবুজ থকে গেরুয়া হয়েছে৷ বিপর্যস্ত তৃণমূল৷ ভোটের পর বাড়ছে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষ৷ ইতিমধ্যেই নিহত উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন৷ দাবি দুই ফুল শিবিরের নেতৃত্বের৷

বাংলায় বিপন্ন গণতন্ত্র৷ এই দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনে মুরলীধর সেন লেনের নেতারা৷ শুধু রাজ্যের সীমানাতেই নয়, আন্দোলনের রেশ তারা বিস্তার করতে মরিয়া দিল্লি পর্যন্ত৷ ভোটের পর লালবাজার অভিযানই ছিল বিজেপির প্রথম সংগঠিত কর্মসূচি৷ ফলে ভিড় প্রদর্শনের তাগিদ ছিল মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহাদের৷ এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াতে আন্দোলনে জোর দিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতারা৷

আরও পড়ুন: রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, হাসপাতালগুলিতে বন্ধ আউটডোর পরিষেবা

প্রথম কর্মসূচিতেই জমায়েত হয়েছে ভালো৷ পুলিশের খাতায় গুরুত্ব বেড়েছে বিজেপির৷ তাই এদিনের লালবাজার অভিযান ঘিরে আঁটোসাঁটো ছিল নিরাপত্তা৷ তবুও দমানো যায়নি গেরুয়া কর্মীদের৷ রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নেতারা যেমন ছিলেন সামনের সারিতে, তেমনই পিছন থেকে নেতৃত্ব দিলেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়রা৷ ছিলেন নবনির্বাচিত সাংসদরাও৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালবাজার অভিযোনের মধ্যে দিয়ে দলের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের ছবি যেমন ফুটে উঠলো তেমনই প্রকাশ পেল পোক্ত সাংগঠনের দিকটিও৷ যা চাগিয়ে দিল আগামী দিনে মমতা সরকার বিরোধী অভিযোনের রসদ৷