সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: আবার এদেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ বাণিজ্যিক ব্যাংক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি)-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল পাক শহর লাহোর থেকেই৷ এই ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে জানা যাচ্ছে ভারতীয় পুঁজিকে সম্বল করে স্বদেশি ব্যাংক গড়ার চেতনা কাজে লেগেছিল এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে৷ পিএনবি-র পরিচালক মণ্ডলীর অনেকেই ছিলেন স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত৷ এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন লালা লাজপত রায়৷ সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য রাজপথে নেমেছিলেন তিনি৷লাহোরেই তাঁকে পুলিশ অমানবিক লাঠিপেটা করে৷ সেই আঘাতের জেরে ১৯২৮ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যু হয় লালাজীর৷ তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৬৫ সালের ২৮ জানুয়ারি৷

স্বদেশী আন্দোলন চলাকালীন লাজপৎ রায় অনুভব করেছিলেন বেশির ভাগ ব্রিটিশ ব্যাংকগুলিতে রাখা ভারতীয়দের টাকা সামান্য সুদ পায় অথচ ওই সব ব্যাংকের মোটা মুনাফা চলে যায় ব্রিটিশ শেয়ারহোল্ডার মারফত বিদেশে৷ আর সে কথাই তিনি জানিয়েছিলেন আর্য সমাজের রাই মূল রাজকে৷ স্বদেশী আন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে জাতীয় ব্যাংক খোলার কথা তিনি তখন বলেছিলেন৷ তারই জেরে ১৮৯৪ সালের ১৯ মে লাহোর শহরে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্ম হয়৷
এরপর ১৮৯৪ সালের ২৩মে এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতারা প্রথম চেয়ারম্যান সর্দার দয়াল সিং মাঝিথিয়ার লাহোরের বসত বাড়িতেই ব্যাংকের প্রথম বৈঠক সারেন৷ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লাহোরের বিখ্যাত আনারকলি বাজারে থাকা ডাকঘরের বিপরীতে একটি বাড়ি ভাড়া করা হবে ব্যাংকের জন্য৷ আর সেখান থেকেই ১৮৯৫ সালের ১২ এপ্রিল পাঞ্জাবীদের বৈশাখি উৎসবের ঠিক আগে ব্যাংক হিসেবে ব্যবসা শুরু করে পিএনবি৷ এই ব্যাংকের ইতিহাসে জড়িয়ে আছে আরও এক পাক শহর৷ ১৯০০ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পিএনবি প্রথম তার শাখা কার্যালয় খোলে৷ তারপর আস্তে আস্তে ক্রমশ উপমহাদেশের অর্থনীতিতে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷এতদিন বাইরে থেকে পরামর্শ দিলেও এই সময় এই ব্যাংকের পরিচালক মন্ডলিতে যোগ দেন লালা লাজপৎ রায়৷

১৯৪১ থেকে ১৯৪৬ এই ব্যাংকের বড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল৷ ওই সময়ের ব্যবধানে ব্যাংকের শাখা ৭১ থেকে বেড়ে ২৭৮ হয়৷ কিন্তু দেশভাগ হওয়ার পরিবেশে ব্যাংকের পরিচালকমণ্ডলী ভারতে চলে আসার মনস্থির করেন৷ সেই মোতাবেক লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়৷ ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অনুমতি এসে যায়৷ তারপরেই লাহোর ছেড়ে দিল্লিতে ব্যাংকটির সদর কার্যালয় সরিয়ে আনা হয়৷ পরে স্বাধীন ভারতে ব্যাংক জাতীয়করণের মাধ্যমে পিএনবি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তকমা৷ যদিও এখন চাকা উল্টো দিকে ঘুরেছে৷ তাই সরকারের হাতে থাকা এই ব্যাংকের শেয়ার বেচে দিয়ে বিলগ্নিকরণের পথে হাঁটা হচ্ছে৷ যদিও আবার ২০১৮ সালে এই ব্যাংকে থেকে ১১হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি করে পলাতক রয়েছে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ৷ আবার ২০১৯ সালে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় পিএনবি , ইউবিআই এবং ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স এই তিনটি ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ৷