স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: মানবজীবনকে কল্যাণমূলক করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল চন্ডীপুরের বেসরকারি সংস্থা অলস্টার৷ মঙ্গলবার রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুজোর সূচনা করলো চন্ডীপুরের এই সংস্থা৷ যেভাবে রক্তের অভাবে মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যু ঘটে চলেছে তা প্রশমনের জন্যই এই দিনের রক্তদান শিবির বলে জানান সংস্থার সম্পাদক অম্বরেশ মিশ্র৷

প্রতি বছর এই সংস্থা লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করে থাকে৷ এই বছর তাদের পুজো পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করল৷ প্রতি বছরই এই রক্তদানের মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা হয়ে থাকে৷ যার ব্যতিক্রম হয়নি চলতি বছরেও৷ মঙ্গলবার রক্তদান শিবিরের মধ্যে দিয়ে এই পুজোর উদ্বোধন করেন চন্ডীপুর বিধানসভার বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য, চন্ডীপুর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অভিষেক দাস, চন্ডীপুর থানার ওসি বিপ্লব হালদার, চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ পরিমল দাস সহ অন্যান্যরা৷

এলাকার কয়েক দল তরুণ যুবকদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনের এমন মহতী উদ্যোগকে কুর্নিশ জানায় সমগ্র চন্ডীপুরবাসী৷ মঙ্গলবার তাদের এই রক্তদান শিবিরে প্রায় শতাধিক মানুষ রক্ত দান করেন৷ এদিন রক্তদান ছাড়াও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে এই সংগঠন৷ এই দিনের রক্তদান শিবিরের পরিচালনা করে তমলুক জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

এই দিনের রক্তদান শিবিরে উপস্থিত হয়ে চন্ডীপুর বিধানসভার বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও মুমূর্ষু রোগীকে রক্তের অভাবে জীবন দিতে হয় সেই জন্যই এই ধরনের উদ্যোগ৷ আগামী দিনে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ আমি অলস্টারের কর্মকর্তাদের এই ধরনের উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাই৷’’

অন্যদিকে, চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ পরিমল দাস বলেন, ‘‘এই ধরনের কাজকে আগামী দিনে পথিকৃৎ করে যাতে সমাজের একটি কোণে পৌঁছতে পারে সেটাই আমার একমাত্র আশা৷ তাই এই সংস্থা রক্তদানের পাশাপাশি বিনা ব্যয়ে ওষুধ ও চক্ষু রোগীদেরকে চশমা বিতরণের আয়োজন করেছে৷ আমি এই উদ্যোগের সাধুবাদ জানাই৷’’

পাশাপাশি রক্তদাতারা জানিয়েছেন, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে যাতে আরও বেশি করে নেওয়া হয়৷ সব মিলিয়ে দাতাদের দাবি, এদিনের উদ্যোগ যেমন এক সুনাগরিকের পরিচয়, তেমনই সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিও বটে৷ এদিন সমস্ত রক্তদাতাদের ফুলের মাধ্যমে স্বাগত জানায় সংস্থার সদস্যরা৷