লন্ডন: রিলায়েন্স, টাটা, প্রেমজি, জিন্দালদের পর এবার করোনা রুখতে বড়সড় অনুদান ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের। করোনা ভ্যাকসিন তৈরির সবচেয়ে ব্যস্ত গবেষণা কেন্দ্র অক্সফোর্ড জেনার ইনস্টিটিউট। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বর্তমানে হিউম্যান ট্রায়াল স্তরে কাজ চলছে সেখানে। এবার সেই কাজ আরও দ্রুত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে ৩.২ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দিয়েছে ভারতের স্টিল ম্যাগনেট লক্ষ্মী মিত্তাল।

প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, এই সহৃদয় উপহার আগামীদিনে ভ্যাকসিন প্রস্তুতের নানান জটিল পরীক্ষানিরীক্ষায় অনেক বেশি পরিমাণে সাহায্য করবে। এই সিদ্ধান্তকে কুর্ণিশ জানিয়ে এই পোস্টের নাম ‘লক্ষ্মী মিত্তাল এণ্ড ফ্যামিলি প্রফেসরশিপ অফ ভ্যাকসিনোলজি’ নামকরণ করা হবে। বর্তমানে তা প্রফেসর আদ্রিয়ান হিলের নামে রয়েছে।

মিত্তাল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “২০২০ সাল আমাদের অনেক কিছু নতুন করে শিখিয়েছে, আমরা একাধিকভাবে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দেখেছি। আমী সবসময়েই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যপকভাবে ইচ্ছুক ছিলাম, অনেকের মতন আমিও কোভীড-১০ ভ্যাকসিনেরর জন্য অধীর আগ্রহী অপেক্ষা করছি”।

করোনা মোকাবিলায় রতন টাটার দুই সংস্থা টাটা সন্স এবং টাটা ফাউন্ডেশনের তরফে যৌথভাবে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করা হয়। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপ ঘোষণা করে ৫০০ কোটি টাকা। জিন্দালদের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় ১০০ কোটি টাকা। আজিম প্রেমজির সঙ্গে যুক্ত ৩ সংস্থা মিলিয়ে মোট ১১২৫ কোটি টাকা দান অনুদান ঘোষণা করে। তবে এঁরা সবাই ভারত সরকার বা এদেশে নিজেদের ট্রাস্টের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে অক্সফোর্ড ও ইউকে ইনস্টিটিউট ফর অ্যানিম্যাল হেলথের যৌথ অংশীদারিতে তৈরি হয়েছিল জেনার ইনস্টিটিউট। বর্তমানে বিশ্বের যে কটি ভ্যাকসিনকে নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO-ও তাকিয়ে আছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের দিকেই। সেই ভ্যাকসিনের কাজ যাতে দ্রুত গতিতে চলে, তার জন্যেই অনুদান দিলেন লক্ষ্মী মিত্তল।

জানা গিয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে। করোনাভাইরাসকে কাবু করতে এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটির নাম ChAdOx1 nCoV-19।

সংস্থাটি জানিয়েছে, লন্ডনের ১০,২৬০ জন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের উপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা ও করোনা বিধ্বস্ত ব্রাজিলে ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল হয়ে গিয়েছে। ভারত-সহ অন্যান্য কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলির জন্য একশো কোটি ডোজ তৈরি করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ