স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুজোর বাজার। কিন্তু যাঁদের হাত ধরে দেবী লক্ষ্মীর পা পড়বে আমবাঙালির ঘরে ঘরে। সেই পটশিল্পীদের ঘরে কিন্তু লক্ষ্মীদেবীর কৃপার বড়োই অভাব। শুধুমাত্র লক্ষ্মীর সরা তৈরি করেই যাদের সংসারে হাড়িতে ভাত চরে , তাদের কাছে লক্ষ্মী পুজোর কোন মূল্য নেই। নদিয়ার তাহেরপুর নতুনপাড়া জি.এস কলোনির বেশ কিছু পরিবারের কাছে মাত্র ২ মাস গোটা বছরের আমদানির সময়। এই পরিবারগুলির কাছে লক্ষ্মী আসে লক্ষ্মী পুজোর পর।

কারণ অন্য সকলের ঘরে লক্ষ্মী প্রবেশ করাতে পারলেই তো তাদের ঘরে লক্ষ্মী আসবে। বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকে লক্ষ্মীর সরা বানাতে শুরু করেন বিনয় পাল, সোমনাথ দাসেরা। মহালয়ার পর থেকে তাদের তৈরি লক্ষ্মীর সরা কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায় বিক্রির উদ্দেশ্যে। রাত পোহালেই লক্ষ্মী পুজো, যাদের তৈরি সরাতে হাজার হাজার পরিবারে কাল লক্ষ্মীর আরাধনা চলবে, কিন্তু তারা কতটা সুখে আছেন? ‘একটুও ভাল নেই’ , জানালেন বিনয় পাল।

প্রায় ২ মাসের কাজ শেষ হলেও, মুনাফা যে দিন কে দিন কমছে তা মেনে নিলেন তিনি। জানালেন, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ , রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মাল পাঠাতে গিয়ে খরচ বাড়ছে প্রচুর। সেই তুলনায় দাম মিলছে কম। বছরের বাকি সময় মাটির সরা, গ্লাস, টব তৈরি করতে হয়। এই কাজে বাড়ির মহিলারাও যোগ দেন। সরাতে রঙ করার পর শুকিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন অনেক মহিলারা। তাই লোকের ঘরে লক্ষ্মী পাঠিয়েও ততক্ষণ তাদের মন ভাল থাকে না, যতক্ষণ না তাদের ঘরে লক্ষ্মীর প্রবেশ না ঘটে৷