মুম্বই: খাতায়-কলমে জেল কিংবা জেলের বাইরে, একজন সন্ত্রাসবাদী-অপরাধী যে কত আরামে থাকতে পারে, তা ২৬/১১-র মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকিউর রহমান লাকভিকে দেখলে বোঝা যায়। পাকিস্তানের সেনাশহর রাওয়ালপিণ্ডিতেই একটি গোপন ডেরায় তাকে দিব্ব্যি রাজার হালে রেখেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। সেখানে তার সুবিধার জন্য ইন্টারনেট কানেকশন থেকে শুরু করে টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল, সবই দেওয়া হয়েছে। এমনকী একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এই গোপন ডেরায় তার সঙ্গে বহু নতুন নতুন মুখ হামেশাই দেখা করতে আসছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তারা লাকভির সঙ্গে বসে মিটিং করছে।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলার অন্যতম ঘুটি ছিল লস্কর-ই-তোইবার কমান্ডার লাকভি৷ ওই ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদী হামলায় মুম্বইতে মারা গিয়েছিলেন কমপক্ষে ১৬৪ জন, জখমের সংখ্যা প্রায় তিনশো।

ব্রিটিশ সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, রাওয়ালপিণ্ডির যে ডেরায় লাকভি রয়েছে সেখানকার বন্দোবস্ত দেখলে যে কোনোও সুস্থবুদ্ধি ও বিবেকসম্পন্ন মানুষের মাথা ঘুরে যেতে পারে। কী নেই সেখানে! নিত্যসঙ্গী মোবাইল তো আছেই, সেইসঙ্গে মজুত আছে তার নিজের প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসপত্র। সারা বিশ্বে কোথায় কী হচ্ছে, সেই সমস্ত খবরাখবর নেওয়ার জন্য এবং নিজের লোকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার জন্য জেল কর্তৃপক্ষ নিখরচায় হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেকশনের ব্যবস্থাও তার জন্য করে দিয়েছে।
 
ওই গোপন ডেরার দায়িত্বে থাকা এক পাক সেনা অফিসার জানিয়েছেন, লাকভির সঙ্গে যখন তখন যে কেউ দেখা করতে আসতে পারে, তার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এমনকী, লাকভির বাইরে বেড়িয়ে আসার ইচ্ছা হলে, সে ফোন করে দেয়৷ কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাকে নিতে আসে৷ তখন সে তাদের সঙ্গে বেড়িয়ে পরে। এর জন্যে কেউ তাকে বাধা দেয় না, সব কিছু তার নিজের খেয়ালখুশি মতোই চলে।

২৬/১১-র স্মৃতি যেখানে এখনও ভারতের অসংখ্য মানুষের মনে দগদগে হয়ে রয়েছে, সেখানে ২৬/১১-র অন্যতম মাস্টারমাইন্ড পাকিস্তানের মাটিতে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেই চলেছে। তার সুবিধার জন্য পাক সেনাবাহিনী সব রকম ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৬/১১-র ঘটনার পর ভারত সরকার লাকভিকে এই ঘটনার অন্যতম মূল চক্রী বলে ঘোষণা করে। এর পর আন্তর্জাতিক চাপে ২০০৮ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে বাধ্য হয়। খবর পাওয়া যাচ্ছে, জামিন তো সে আগেই পেয়ে গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তাকে রাওয়ালপিণ্ডির গোপন নজরবন্দি শিবির থেকেও ছেড়ে দেবে পাক সামরিক গুপ্তচর বাহিনী আইএসআই। যাতে ২৬ জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে তাকে নামিয়ে ভারতের মাটিতে বড় ধরনের হামলা চালানো যায়৷ এই হামলার নীল নকশাও পাক সামরিক হেডকোয়ার্টার্সে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর।

 

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ