সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ভারতের ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির ডাক তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন। গান্ধীজির অনেক আগেই তিনি বলেছিলেন ভারতীয়দের আত্মনির্ভতার ওপর জোর দিতে হবে। ইংরেজদের বার্তা দিয়েছিলেন তাঁকে মারলে ফল ভুগবে সাহেবরা। হয়েওছিল তাই। তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে শুরু করেন ভগত সিং, চন্দ্রশেখর আজাদরা। তিনি লালা লাজপত রায়।

১৯২৮ সালের ৩০ অক্টোবর। লালা সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদে নির্মমভাবে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। গুরুতরভাবে আহত লাল বাল পালের অন্যতম লালা লাজপত রায়। আহত হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরীরে করা ব্রিটিশের প্রহার ওদের ধংসের কারণ হয়ে উঠবে’। ১৯২৮ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যু হয় লালার। লালার মৃত্যুর ফলে সমগ্র দেশ উত্তেজিত হয়ে উঠে।

চন্দ্রশেখর আজাদ, ভগত সিং, রাজগুরু, সুখদেব ও অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লালাজির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা নেয়। ১৯২৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভগত সিং ও তাঁর সঙ্গীরা লালার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার সাংডর্সকে গুলি করে হত্যা করে। সাংডর্সকে হত্যার জন্য রাজগুরু, সুখদেব ও ভগত সিংহকে ব্রিটিশ সরকারের কারাগার থেকে ফাঁসির নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে নতুন আন্দোলনের সূচনা হয়।

১৮৬৫ সালের ২৮ জানুয়ারী পাঞ্জাবে লালা লাজপত রায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মুন্সি রাধা কৃষ্ণ আজাদ ছিলেন ফার্সী ও উর্দু সাহিত্যের এক মহান পণ্ডিত ব্যক্তি। মা গুলব দেবী। ১৮৮৬ সালে, তাঁর পরিবার হিসারে স্থানান্তরিত হলে লালা লাজপত রায় সেখানে ওকালতি ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেই তিনি জাতীয়তাবাদী দিনানন্দ অ্যাংলো-বৈদিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং আর্য সমাজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দয়ানন্দ সরস্বতীর অনুগামী হন।

লালা লাজপত রায়ের উদ্দ্যোগে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮৯৫ সালে তাদের যাত্রা শুরু করে। লক্ষী বিমা কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনিই। ১৯০০ সালে কংগ্রেসের সেশনে ভারতীয়দের আত্মনির্ভতার উপর জোর দিতে বলেন। লাজপত রায়, মহাত্মা গান্ধী, অরবিন্দ ঘোষ, বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিন চন্দ্র পালরা স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি ছিলেন। বাল গঙ্গাধর তিলক ও বিপিন চন্দ্র পালের সহিত তিনি লাল-বাল-পাল নামে খ্যাত। তাঁর ব্যক্তিগত বিশেষ পরিচয় পাঞ্জাব কেশরী।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ