কল্যাণীয়া বেগুন,

খবর পেলাম তোমার মধ্যে নাকি পোকা হয়েছে? তাহলে তো খুবই কষ্ট পাচ্ছ ভাই৷তা বলে ভেব না আমি ও তোমার এই কষ্টে মজার ফোড়ন কাটছি। আমিও খুব একটা ভাল নেই। ডাক্তাররা তো রান্নায় আমার ব্যবহারই প্রায় নিষেধ করে দিয়েছে। যদিও এখনও সাবেকি মাংস তে আলু না দিলে চলে না তাই রক্ষে। অথবা রোজকার রান্নাতেও আমি আছি টুকটাক। তাও কি বলি বল, সেই থাকা প্রায় না থাকারই মত। আবার নতুন আলুর সময় হয়ে এল আমিও বাদের তালিকাতেই আছি তোমারই মত। যাই হোক যে জন্য তোমাকে চিঠি লেখা তা হল, আমার বাড়ির গিন্নি মাকে প্রায়ই বেগুনের একটা পদ রাঁধতে দেখি। সেটাই আমার সাথে থাকা সবুজ বেগুনের থেকে জেনেছি সেটাই তোমাকে লিখে পাঠালাম। তোমাদের রায় গিন্নিকে বল সেটা রাঁধতে। আশা করি তাতে করে তোমার কদর বাড়বে বই কমবে না।

আর কি ভাল থেকো। আশীর্বাদ করি যেন তোমার গায়ে পোকা না লাগে। যত পোকা সব যেন ওই শীতের সবজিদের লাগে।

ইতি,

তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী,

পুরােনো আলু

এ তো গেল আলু-বেগুনের মজার পত্রালাপ! বেগুন ভাজা ও বেগুন পোঁড়া ছাড়াও যে বেগুন দিয়ে নানান রকমারি রান্না করা যায় তার একটি উদাহরণ দেওয়া হল লাজবাব বেগুন বাহারির মাধ্যমে। আসুন দেখে নিই কিভাবে তৈরি করবেন এই বেগুনের রেসিপি।

উপকরণ: বেগুন – ৪টে, ছোলার ডাল-১০০ গ্রাম, গোটাধনে – ২৫ গ্রাম,হলুদ গুঁড়ো – অল্প, শুকনো লঙ্কা-২/৩ টে,নুন- স্বাদ মত। হিংয়ের গুঁড়ো- দরকার মত।নারকেল কোরা- ১ কাপ, তেল – মাপ মত,আমচুর- ২ চামচ, পেয়াঁজকলি বা ধনে পাতা- সাজানোর জন্য, সাদা সুতো- এক হাত।

প্রণালী- ডাল, ধনে ও শুকনো লঙ্কা শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এবার বেগুনগুলি ভাল করে ধুয়ে বোঁটাসমেত আধা আধি করে চিড়ে নিতে হবে। একটা পাত্রে গুঁড়ো মশলাসমেত ডাল, নারকেল কোরা, হলুদ,নুন, আমচুর, হিঙের গুঁড়ো ভাল করে মেখে বেগুনগুলো ফাঁক করে ওর ভেতরে ভরে দুটো পাশ সমান করে সুতো দিয়ে বেঁধে ছাঁকা তেলে ভেজে নিন। তারপর পেয়াঁজ কলি বা ধনে পাতা ছড়িয়ে গরম গরম ভাতের বা রুটির সাথে পরিবেশন করুন।