ছবি- মিতুল দাস

বসন্ত আসুক বা না আসুক সেই ‘চতুষ্কোণ’ ছবি মুক্তির পর থেকেই বাঙালির মুখে মুখে ‘বসন্ত এসে গেছে’৷ যাঁর গানে সেই বসন্ত এসেছে, সেই লগ্নজিতা চক্রবর্তীর কিন্তু বসন্ত নিয়ে অহেতুক কোনও রোম্যান্টিসিজম নেই৷

সোজাসাপটা কথা বলতে ভালোবাসেন৷ বাইরে যতই খ্যাতি পান এখনও বাবা-মা’র কাছে বকা খান৷ স্কুটি না হলে নির্দ্বিধায় অটোয় চেপে বসেন৷ এখনও পাড়ার লোকেরা লগ্নজিতার থেকে ডাকনামেই তাঁকে বেশি চেনে৷ বসন্ত এসেছে বটে, অনেককিছু পাল্টেওছে, কিন্তু ওলটপালট হয়নি৷ যে বাড়িতে যৌথপরিবারের সংসারে ছোট থেকে বড় হয়েছেন, সেখানে বসেই খোলা আড্ডায় জানালেন তাঁর এই কিছুটা বদলে যাওয়া, অনেকটা না বদলানো জীবনের কথা৷শুনলেন সরোজ  দরবার

 

এ পাড়ায় তো দেখলাম লগ্নজিতার থেকে ‘রাই’কেই বেশি লোকে চেনে৷ ‘বসন্ত এসে গেছে’র পর পাড়ার লোকের কাছে রাইয়ের স্ট্যাটাস কি একটু বদলে গেছে?

লগ্নজিতা: আমার মনে হয় না৷ আমি পাড়ার সবার থেকে আদর বলো, সমীহ বলো, সবই বরাবর পেতাম৷ কেননা আমি ছোট থেকেই খুব ওয়েল বিহেভড, শান্ত৷ বাইরে অনেকেই আমাকে অ্যারোগেন্ট ভেবে বসেন, কিন্তু আমি বলব আয়্যাম ভেরি নন চ্যালেঞ্জড বাই নেচার৷ আমার কোনও কিছুতেই তেমন কিছু এসে যায় না৷ সাফল্যতেও আসে না৷ আবার কোনও কিছুতে ব্যর্থ হলে আমি যে প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে পড়ব এমনটাও নয়৷ আমি বেশ নিজের মতো থাকতেই ভালোবাসি৷ তাই পাড়ার লোকের কাছেও আমি লগ্নজিতা হয়ে যাইনি, রাইই আছি৷

এই যে বলছ কিছুতেই কিছু এসে যায় না, কিন্তু এসে যাওয়া তো উচিত৷সাফল্যের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম, ব্যর্থতাতে এসে গেলে, তবে তো অ্যানালিসিস করে ব্যাথর্তার কারণগুলো খুঁজতে পারবে..

লগ্নজিতা: কী জানি, কেন জানি না আমাকে কিছুতেই কিছু স্পর্শ করে না৷ এই এখন লোকে এত ভালো বলছে৷ সকলেই প্রায় একটা প্রশ্ন করে চলেছেন, স্টারডম কেমন লাগছে? আমার তো কিছুই আলাদা করে মনে হয় না৷ আমি তো সেই একই পাড়াতে থাকি৷ একইরকম আছি৷ আর স্টার বলে তো ট্যাক্সিওলা বলবে না যে, তোমার ভাড়াটা নেব না৷ কোথাও তো কিছু মুকুব হবে না৷ সুতরাং আলাদা করে আর কী!

ঘরে বেশ নানারকমের গানের বই দেখছি- ‘রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রামাণ্য সুর’, ‘নজরুলগীতিবিচিন্তা’ – গান নিয়ে পড়াশোনা করেছ?

লগ্নজিতা: কোনওদিনই না৷ গান নিয়ে আগেও তেমন প্যাশনেট ছিলাম না, এখনও তেমন না৷ বরং অনেক বেশি প্যাশনেট ছিলাম আমার পড়াশোনা নিয়ে৷ এই বইগুলো সব এমনিই পড়েছি৷ আসলে আমি পড়াশোনা নিয়েই থাকতে চেয়েছিলাম৷ করেওছি৷ এমন নয় যে, পড়তে চেয়েও পড়তে পারিনি৷ মাস্টার্স করার পর একটা বায়োটেক ফার্মে চাকরি করতাম৷ চাকরি ছেড়েছিলাম, সরকারী চাকরির প্রস্তুতি নেব বলে৷ তারমধ্যেই বসন্ত এসে গেল৷ তারপর তো অনেক কিছুই বদলে গেল৷

LAGNOJITA04
ছবি-মিতুল দাস

বসন্ত কি তোমার কাছে হঠাৎ করে চলে এল? সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে আচমকা তোমার ডাক এল কেন?

লগ্নজিতা:  আমি তখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি৷ তখন ‘পেন্ডুলাম’ নামে একটা ছবি তৈরি হচ্ছিল৷ ছবির পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল, আমি রাজনদাদা বলি, উনি আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড৷ তো রাজনদাদা বলেছিল আমার ছবিতে চারলাইন গাইতে পারবি?  গেয়েছিলাম৷ ‘পেন্ডুলাম’ অবশ্য অনেক পরে রিলিজ করে৷ তো ওখানে আমার গান শুনে অনুপমদা আর ঋজুদা(সৃজিত মুখোপাধ্যায়) আমাকে ডাক দেয়৷ এই হল বসন্তের আসার ঘটনা৷ এতটাই সিম্পল৷ অনেকেই বিশ্বাস করেন না যে, কিন্তু এতটাই সাধারণ ছিল ব্যাপারটা৷ সবাই জিজ্ঞেস করেন ওঁদের সঙ্গে আমার আগে থেকে যোগাযোগ ছিল কি না, পিআর করতাম কি না? আরে করবটা কি করে, আমি তো বায়োটেক ফার্মে চাকরি করতাম৷ সেখানে থেকে তো সৃজিত মুখোপাধ্যায় বা অনুপম রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়া সম্ভব নয়৷

গান শেখা কি ছোটবেলা থেকেই?

লগ্নজিতা: সেই তিন বছর বয়স থেকে৷ শাস্ত্রীয় সংগীতই শিখেছি৷ এখন আমি শিখছি শাশ্বতী চৌধুরীর কাছে৷ তার আগে আমি গান শিখেছি দুলাল চক্রবর্তীর কাছে৷ এই কিছুদিন হল তিনি পরলোকগত হয়েছেন৷ ওঁকে আমি বন্ধু বলে ডাকতাম৷ ওঁর বাড়ি ছিল গিরীশ পার্কে৷ সেখান থেকে আমাকে গান শেখাতে আসতেন৷ তখন তো মেট্রোও ছিল না৷ বন্ধুর কাছে আমি ১৮ বছর গান শিখেছি৷ আমি আজ যা, তা বন্ধুর জন্যই৷ কিন্তু উনি আমার সাফল্য দেখে যেতে পারলেন না৷ তবে একটা কথা আমি বলব, আমি খুব লাকি যে যাঁর যাঁর কাছেই আমি গান শিখেছি, সকলেই আমাকে খুব যত্ন করে শিখিয়েছেন৷ এখন অনেকে কমপ্লেন করেন যে, অনেক শিক্ষকই ভালো করে শেখান না ইত্যাদি ইত্যাদি৷ কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কখনও সেরকম হয়নি৷ আমি রবিন্দ্রসঙ্গীত শিখতাম সীমা সেনের কাছে৷ তিনিও সম্প্রতি মারা গেছেন৷ ওই যে বললাম, আমি গানের ব্যাপারে তেমন প্যাশনেট ছিলাম না৷ এঁরা যদি আমাকে যত্ন করে না শেখাতেন তাহলে আমার শেখাই হত না৷ মারও খেয়েছি এঁদের কাছে৷ আমি তো বাবা-মা’র কাছেও প্রচুর মার খেয়েছি৷ এখন নাকি বাড়িতে মার খেলে বাচ্চাদের চাপ হয় শুনি৷ আমার বড় হয়ে ওঠার মধ্যে এসব কখনও ছিল না৷

তারপর বসন্ত এসে গেল৷ অনেক খ্যাতি৷ প্রচার৷ তো পরের গান গাওয়ার সময় প্রত্যাশার চাপ ছিল না?

লগ্নজিতা: দেখ খ্যাতির আয়ু বেশিদিন হয় না আমি জানি৷ ‘বসন্ত এসে গেছে’ আমি গেয়েছিলাম ঠিক আগের বসন্তে৷ তখন থেকে ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা চিনত, তবে জনপ্রিয়তা এল আরও পরে৷ বসন্তের পরেও আমি নানা প্রোজেক্টে গান গেয়েছি৷ সিনেমার গান, নাটকে গান, চ্যানেলের অ্যান্থেম গেয়েছি৷ কিন্তু  চতুষ্কোণ-এর পাবলিসিটি যেভাবে হয়েছে, বাকিগুলোর তো সেভাবে হয় না৷ তাই হয়তো সকলের কাছে সেভাবে পৌঁছয়নি৷ আবার কোনও বড় ব্যানারের কাজ করলে নিশ্চয়ই পাবলিসিটি হবে৷ তবে পাবলিসিটি নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছিও না৷ আমার শুধু বেকারত্বে ভয় লাগে৷ গত এক বছরে সেই জায়গাটায় অন্তত কোনও সমস্যা হয়নি৷ আর আমাকে বাড়িতে বসে থাকতেও হচ্ছে না৷ ব্যাস এই দুটো মিটে যাচ্ছে, আমি খুশি৷ যখন দেখব কাজ নেই, তখন আবার চাকরিতে ফিরে যাব৷ আমার অ্যাকাডেমিক সিভি যেরকম, তাতে মনে হয় না কোনও সমস্যা হবে৷

মানে এই দুনিয়া ছেড়ে দশটা-পাঁচটার জগৎ? সেখানে মানিয়ে নিতে পারবে?LAGNOJITA 02

লগ্নজিতা: আরে আমি দশটা-পাঁচটার জীবনকে খুব ভালোবাসি৷ ছোটবেলা থেকেই আমি খুব ডিসিপ্লিনড৷ রুটিন মেনে, পাংচুয়ালিটি বজায় রেখে চলতে আমি ভালোবাসি৷ এই জীবনটাও আমার তাই খুব পছন্দের৷

তোমার গানেই তো এবার বসন্ত ছয়লাপ৷ তোমার নিজের বসন্ত কেমন লাগে?

লগ্নজিতা: আমি না একেবারেই নীরস প্রকৃতির৷ আমার মধ্যের নন চ্যালেঞ্জিং ব্যাপারটা  আমার প্রেমের মধ্যেও আছে৷ মানে আমি প্রেম করি সেটা ঠিক আছে, কিন্তু তাই নিয়ে বাড়াবাড়ি করি না৷ তাই বসন্ত নিয়ে আমার খুব যে কিছু ব্যাপার আছে তেমনটা নয়৷

তোমার প্রিয় ঋতু তাহলে কি?

লগ্নজিতা: আমার শীত খুব ভালো লাগে৷ বেশ কালারফুল পোশাক পরা যায়৷ স্কিনটাও বেশ ভালো থাকে৷ যে ক’টাদিন শহরে শীত থাকে, আমার খুব ভালো লাগে৷

তুমি ক্ল্যাসিক্যাল শেখো বলছিলে৷ তো ক্ল্যাসিক্যাল গাওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই?

লগ্নজিতা: আমি শিখেছি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, শুনি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, কিন্তু গাই না৷ বাড়িতে বাবা ছোটবেলা থেকে ক্ল্যাসিক্যালের প্রোগ্রামে নিয়ে যেত৷ তখন ভালো লাগত না৷ বিরক্ত হতাম৷  কিন্তু এই করে করেই আমার শোনার কানটা তৈরি হয়েছে৷ কলকাতা শহরে এমন কোনও ক্ল্যাসিক্যাল কনসার্ট হয়নি যে আমি যেতাম না৷ শেষ এক বছরে অবশ্য যাওয়ার সময় করে উঠতে পারিনি৷ তবে আমার গাইতে ভালো লাগে গজল, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল ধরনের গান৷

গান শেখায় কখনও ফাঁকি দিতে না? কিংবা পড়া আর গানের মধ্যে পড়ে ধুৎতোরিকা টাইপের ব্যাপার হত না?

লগ্নজিতা: পড়ার ব্যাপারে আমি ফাঁকি দিতাম না৷ আমি খুব পড়াকু ছিলাম৷ তবে হ্যাঁ গানের ব্যাপারে ছিল৷ আমার গুরুজি কোনওদিন অ্যাবসেন্ট করেননি৷ আমিই বরং মিথ্যে কথা বলে, এটা ওটা করে ফাঁকি দিয়েছি৷

এখন ভেবে মনে হয় না যে, ভাগ্যিস সেদিন শিখেছিলে বা জোর করে কেউ ধরে বসিয়েছিল, নইলে এ দিনটায় পৌঁছতে পারতে না?

লগ্নজিতা না সেরকম মনে হয় না৷ আসলে গানটা না হলে যে আমার কিছু এসে যেত এরকম না৷ কিছু না কিছু তো করেই নিতাম৷ তবে হ্যাঁ আমার গুরুদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ৷ ওঁরা তো যা করছে করুক বলে ছেড়ে দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি বলেই গানটা গাইতে পারছি৷ নইলে হয়তো বেসুরো গাইতাম৷ তবে এখনও গান নিয়ে আমি সাংঘাতিক প্যাশনেট কিছু নয়৷ হয়তো এখন আমার বয়স কম, রেসপন্সিবিলিটি কম তাই এত দাপটের সঙ্গে এই কথা বলতে পারছি৷ অন্য পরিস্থিতি হলে হয়তো এরকম বলতে পারতাম না৷ কিন্তু সেরকম পরিস্থিতি যখন নেই তখন আমি এই ফিলোজফিতেই আছি৷

 এই যে একটা গানেই এত খ্যাতি, এ নিয়ে তো ইন্ডাস্ট্রিতে নিশ্চয়ই অনেক কথা হয়েছে…

লগ্নজিতা: হ্যাঁ তা হয়েছে৷

তোমার ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা কীরকম?

লগ্নজিতা: ভালোই৷ দেখ, আমি তো যৌথ পরিবারে বড় হয়েছি৷ সেখানেও তো অনেকরকম মানুষের সঙ্গে থাকতে হয়৷ তো এই ট্রেনিংটা আমার ছোটবেলা থেকেই আছে৷ ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়েও একই জিনিস দেখেছি৷ আলাদা করে নতুন কিছু মনে হয়নি৷

এই যে সোজাসাপটা কথা বলো, এতে ইন্ডাস্ট্রিতে সমস্যা হয় না?

লগ্নজিতা: অনেকেই অ্যারোগেন্ট ভাবেন৷ অনেকেই অ্যাভয়েড করেন৷ আবার বোঝেন এমন অনেকেও আছেন৷ ধরো কনীনিকাদি আমার ভালো বন্ধু৷ এটা যাস্ট একটা নাম বললাম৷ এরকম কেউ কেউ আছেন যাঁরা আমাকে বোঝেন৷ কী করব আমি অপ্রিয় সত্যিটাও যেমন বলতে পারি না, তেমন মিথ্যে মিথ্যে করেও বলতে পারব না৷ এটা এখন অনেকেই বুঝে গেছেন৷ আমার সঙ্গেও কেউ স্ট্রেট কথা বলুক  সেটাই পছন্দ করি৷ অনেকেই মনে এক, মুখে আর এক- এরকম ভাবে থাকেন৷ সেটা আবার একটা আলাদা লেভেলের আর্ট৷ কিন্তু আমি তো অভিনেত্রী নয়, গায়িকা, তাই আমার ওই অভিনয়টা করার দরকারও নেই৷

মানে বসন্তের গান যেমনই হোক, তুমি মোটেও নরম প্রকৃতির নয়?

লগ্নজিতা:  না আমার কাছে কেরিয়ার ইত্যাদি তেমন কোনও ব্যাপার নয়৷ হচ্ছে হচ্ছে এরকম একটা ব্যাপার৷ হয়তো বাবা-মা’র কিছু হলে আমি নিজেকে সামলাতে পারব না৷ বাকি সব কিছু ঠিক আছে৷ কী আর হবে, হয়তো তোমরা ইন্টারভিউ নিতে আসবে না৷ এর বেশী আর কী হতে পারে? আমার কাছে আমার ফ্যামিলি সবসময় প্রফেশনের আগে৷

এই এক বছরে বাড়িতে বকা খেয়েছে?

লগ্নজিতা হ্যাঁ৷ আমার মা-বাবা ভীষণ স্ট্রিক্ট৷ এখনও বকা দেয়৷ আর আমার সেটা ভালোই লাগে৷ কেননা সেলিব্রিটি বলো আর যাই বলো, বাড়িতেও যদি সেরকমভাবে ট্রিট করে তাহলে খুব চিন্তার বিষয়৷ আমার ক্ষেত্রে অন্তত সেরকম কিছু হয়নি৷ আমার বাবা তো বন্ধুদের ডেকে জিজ্ঞেস করে, কিরে লগ্নজিতার কোনও চেঞ্জ হয়েছে নাকি? ওরাই বরং বলে ও তো একইরকম আছে, একটু পালটানো উচিত৷ কিন্তু যে বন্ধুর বাড়ি একটা অটোয় সহজেই যাওয়া যায়, স্কুটি না থাকলে আমি সেখানে অটোতেই যাই৷আলাদা কিছু করার মানে হয় না৷

এই গানটার পরে গানের জগতের স্টলওয়ার্থরা কেউ কিছু বলেছেন?

লগ্নজিতা: না সেরকম কেউ কিছু বলেননি৷ আর আমার সঙ্গে সেরকম আলাপও নেই তেমন৷

এখন তো ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে৷ বাইরে থেকে অনেক ডাক আসে৷ তো সবকিছু সামলাও কি করে?

লগ্নজিতা: আমি নিজেই সব সামলাই৷ আমি এমন কিছু হয়ে যাইনি যে, কাউকে সামলাতে লাগবে৷ তবে হ্যাঁ, কোনও কিছু সাজেশনের দরকার হলে আমি অনুপমদার দ্বারস্থ হই৷ অনেক কিছুই আমি জানি না৷ কারণ আমি আগে কখনও করিনি৷ সেগুলো আমি অনুপমদাকে জিজ্ঞেস করি৷ আর অন্যান্য দিকগুলো সব বাবাই সামলায়৷

অ্যালবাম করার কোনও পরিকল্পনা নেই?

লগ্নজিতা: অনেকেই আমার অ্যালবাম করতে চেয়েছে৷ একটা অ্যালবাম করার বিষয়ে কথাবার্তাও এগিয়েছে৷ ফিউশন মিউজিক নিয়ে কিছু করার ইচ্ছে আছে৷ তবে অ্যালবাম করার জন্য যে সময়টা দরকার, সেটা এখন আমি পাচ্ছি না৷

তুমি তো বললেই অনুপমদাকে দিয়ে গান লিখিয়ে নিতে পার?

লগ্নজিতা: অনুপমদা নিজের ছাড়া অন্য কারও অ্যালবামের জন্য গান লেখে না৷ আমি বললেও না৷

তুমি এমন একটা সময়ে এসেছ যখন বাংলা বেসিক গানের ইন্ডাস্ট্রির খারাপ অবস্থা৷ তো তোমার জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে কিছু করতে হবে, এরকম রেসপন্সিবিলিটি ফিল করো?

লগ্নজিতা: দেখো আমি পারিবারিক দিক থেকে রেসপন্সিবল৷ গানের ব্যাপারেও সে রেসপন্সিবিলিটি নিতে আমার আপত্তি নেই৷ কিন্তু আমি জানি না যে, আমাকে কী করতে হবে৷ কেউ যদি এসে বলেন যে, লগ্নজিতা এটা করো, করলে বাংলা গানের ভালো হবে, আমি নিশ্চয়ই করব৷

 কয়েকটা র‍্যাপিড ফায়ারে যাই..

লগ্নজিতা-বেশ

কোনও একটা বাংলা বইয়ের সঙ্গে সারাদিন-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের যে কোনও বই

কোথাও ঘুরতে যাওয়া- সমুদ্র

পছন্দের ডিস- চাইনিজ

অনুপম রায় নাকি ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত- নো কমেন্ট

সৃজিত মুখোপাধ্যায় নাকি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়- নো কমেন্ট

গান নাকি আড্ডা- আড্ডা

ইন্ড্রাস্ট্রিতে কাজ পেতে গেলে তো পিআর করতে হয়৷ তো সেটা করো?

LAGNOJITA01লগ্নজিতা: আমি পিআর করে কিছুই করতে পারব না৷ আমার পিআর ন্যাচরলি হয়৷ এই যে পার্টিতে যাই তার কারণ আমি খেতে খুব ভালোবাসি৷ আর আমাদের একটা গ্রুপ আছে৷ কনিনীকাদি, সোহিনী, সায়নী, ইন্দ্রাশিস, ঊষশিদি- আমরা আড্ডা দিই, খাইদাই চলে আসি৷ পিআর কিছুতেই করতে পারি না৷ এই যে ইন্দ্রাশিসের সঙ্গে গল্প করি, সে কি পিআর করার জন্য? ও তো অভিনয় করে, আমাকে গান দেবে না, কিন্তু তাই বলে এর সঙ্গে গল্প করব না তাই আবার হয় নাকি? পিআর করতে পারব না, যাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, শুধু ভালো সম্পর্কের জন্যই ভালোস অন্য কোনও কিছুর জন্য নয়৷

সম্প্রতি একটা মিউজিক অ্যাওয়ার্ড সেরিমোনির পর ফেসবুকে একশোর বেশি মেসেজ পেলে, যদিও পুরস্কার তুমি পাওনি৷ এটা কি বাড়তি পুরস্কার?

লগ্নজিতা: আমি খুব আশা করেছিলাম যে পুরস্কারটা আমি পাব৷ সেদিন আমার পারফর্মেন্সও ছিল৷ পপুলার ক্যাটেগোরির অ্যাওয়ার্ড ছিল৷ ‘বসন্ত এসে গেছে’ টানা দশ সপ্তাহ সেরার তালিকায় ছিল৷ তো স্বাভাবিক ভাবেই এক্সপেক্ট করেছিলাম৷ কিন্তু একদম শেষে গিয়ে বুঝলাম ওটা আমি পাচ্ছি না৷ ফিরে দেখলাম ফেসবুকে এত লোক জেনে বিষয়টি নিয়ে মেসেজ করেছেন৷ তো ঋজুদাও বলেছিল, যে এই ১৬৭ টা মেসেজ হল তোর ১৬৭টা অ্যাওয়ার্ড৷

এই তোমার যতদিনের কেরিয়ার, গান গাইতে আসা, এর মধে তোমার নিজের কোন জিনিসে মনে হয়েছে তুমি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে গেছ?

লগ্নজিতা: গান করতে এসে আমি অনেক ভালো মানুষের দেখা পেয়েছি, তাঁদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হয়েছে৷ এটাই আমার কাছে বড় অ্যাওয়ার্ড৷

(ছবি-মিতুল দাস)