প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: বাসের মধ্যে সন্তানের জন্ম দিলেন মা৷ বাস চালকের তৎপরতায় দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হল তাঁকে। মা ও সদ্যোজাত সন্তান দু’জনেই এখন সুস্থ।

রাত পোহালেই বড়দিন। তার আগে খুশির খবর বর্মা পরিবারে। যাত্রীবাহী বাসের মধ্যেই ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি মা। সোমবার সকালে হুগলির গোবরা থেকে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলাকে কলকাতার মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল শারীরিক পরীক্ষার জন্যে। হঠাৎই রাস্তায় হাওড়ার বেলগাছিয়া বেনারস রোডে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে তাঁর। চলন্ত বাসেই ওই মহিলা জন্ম দেন এক কন্যা সন্তানের।

বেলগাছিয়া থেকে হাওড়া হাসপাতালের দূরত্ব বেশী হাওয়ায় বাসের সব যাত্রীদের নামিয়ে বাসচালক গাড়ি সমেত ওই মহিলাকে নিয়ে ছুটে আসেন দু’কিলোমিটার দূরে কোনা হাসপাতালে। সেখানেই শুরু হয় মা ও সদ্যোজাতর চিকিৎসা। বাসচালক ও কর্মীদের তৎপরতায় এখন সুস্থ আছে মা ও তার শিশুকন্যা।

জানা গিয়েছে, হুগলির গোবরা শিবতলার বাসিন্দা নান্টু বর্মা তাঁর সন্তান সম্ভবা স্ত্রী অঞ্জলি বর্মাকে(২৩) নিয়ে যাচ্ছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে চেক আপ করাতে। সকাল ১১ টা নাগাদ বাড়ি থেকে রওনা দেন ওই দম্পতি। তারা হাওড়ার জগদীশপুর থেকে ৫৭ এ রুটের বাস ধরে হাওড়া আসছিলেন। অফিস টাইমে ভিড়ে ঠাসা ওই বাসে প্রসব বেদনা শুরু হয় অঞ্জলি দেবীর। বাসটি লিলুয়ার বেলগাছিয়া মোড়ে এলে বাসের মধ্যেই কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি।

সেই সময়ে এগিয়ে আসেন বাসে থাকা মহিলা যাত্রীরা। তখন বাসের সমস্ত পুরুষ যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে শুধুমাত্র মহিলা যাত্রীদের দিয়ে ওই মহিলার সাহায্য করার চেষ্টা করেন বাসের চালক ও কন্ডাক্টর। বাসের যাত্রীদের তাদের টিকিটের পয়সা ফেরত দিয়ে তাদের অন্য বাস ধরার জন্যে অনুরোধ করেন বাসটির কন্ডাক্টর। প্রথমে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা ভাবলেও রাস্তায় যানজটের কথা চিন্তা করে বাসটি ঘুরিয়ে কোনা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান বাসটির চালক।

বাসচালক কমলকান্ত মান্না জানান, শিশুটির জন্ম হয় বেলগাছিয়ায়। বাসের যাত্রীরা বলছিল হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে এলে যানজটে পড়তে পারত। সেই কারণে কাছেই কোনা প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

বাসের এক যাত্রী জানান, সদ্যোজাত যেন সুস্থ ও সবল থাকে এটাই কামনা। একটা কথা ভেবে ভালো লাগছে একটা প্রাণ বাঁচাতে পেরেছি। বাসের মহিলা যাত্রী অপর্ণা বাড়ুই জানান, ভালো লাগছে শিশুটি বেঁচে গিয়েছে। শিশুর জন্মের সময় নাড়ি গলায় জড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি এই অবস্থা দেখে নাড়িটি খুলে মায়ের হাতে শিশুটিকে তুলে দেন।