স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা: দাদাকে বলতে বলতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বৃদ্ধা। মেয়র পারিষদ ভাবেননি জনসংযোগ করতে গিয়ে সাহায্য প্রার্থী জনতা তাঁর হাতেই মারা যাবেন। সিনেমার মত মনে হলেও এটাই বাস্তব। মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমারের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই মারা যান বৃদ্ধা।

ঘটনা ২ডিসেম্বরের, ২০১৮-র। জনসংযোগ কর্মসূচিতে বেরিয়েছিলেন মেয়র পারিষদ। নাম “সাথে নিয়ে মনের ক্ষোভ , এক কাপ কফির সাথে বসা হোক’। কিন্তু সেই কাজে বেরিয়ে যে এমন ঘটনার সম্মুখীন হত হবে তা মেয়র পারিষদ ভাবতে পারেননি।

জানা গিয়েছে , ৮৫ বছরের বৃদ্ধা সরস্বতী দাস বহুদিন ধরে দেবাশীষ কুমারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কিছু সমস্যা রয়েছে তার হাল করার কথা বলতে চাইছিলেন। মেয়র পারিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে , মানুষের বহু সমস্যার সমাধানের কাজ একে একে দেবাশীষ কুমার করছিলেন। তাই বৃদ্ধার কাছে পৌছাতে সময় লাগছিল। ২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দেবাশীষবাবু তাঁর সহ কর্মীদের নিয়ে ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭৭ নম্বর পার্টে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে ওই ঘটনা।

 

মেয়র পারিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘বৃদ্ধা আবেগতারিত হয়ী পরেছিলেন। মহিলা আশা করেননি দেবাশীষবাবু তাঁর বাড়িতে গিয়ে হাজির হবেন।’ মেয়র পারিষদের সামনে বসে সরস্বতী দেবী তাঁর সমস্যার কথা বলেন। পুরোটাই পারিবারিক সমস্যা।’ মহিলার দুই মেয়ে। দুজনেরই বিয়ে দিয়েছেন বৃদ্ধা। এদের মধ্যে এক মেয়ে জামাই তাঁর দেখাশোনা করে। অপর মেয়ের স্বামী তাঁর দায়িত্ব নিতী রাজি নয়। কিন্তু বৃদ্ধার অভিযোগ ছিল ওই জামাই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিজরদারি চালাতে চাইত। তাঁর ব্যাঙ্কে থাকা টাকা হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করত বলেও দেবাশীষবাবুকে অভিযোগ জানান বৃদ্ধা। তবে সেই টাকার পরিমাণ ছিল মাত্র ২০ হাজার টাকা।

মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমার বৃদ্ধাকে আশ্বাস দেন তাঁকে কারও কাছে যেতে হবে না। যা সমস্যা আছে সব সমস্যার তিনি নিজে সমাধান করবেন। যে মেয়ে জামাই তাঁর দেখাশোনা করে তারাই তাঁর কাছে থাকতে পারবে সীই ব্যবস্থাও তিনি করে দেবেন বলে জানান। এই আশ্বাস পাওয়ার পরেই আচমকা হার্ট অ্যাটাক করে ওই মহিলার। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিকটস্থ শিশুমঙ্গল হাসপাতালে মিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার ১০ – ১৫ মিনিটের মধ্যেই মারা যান বৃদ্ধা। অনেক চেষ্টা করেও কিছু করা যায়নি।

প্রসঙ্গত দেবাশীষ কুমার এর আগেও একটি জনসংযোগ রক্ষার একটি কাজ শুরু করছিলেন, যার নাম দিয়েছিলেন ‘মানুষের মন্তব্য, দেবা দা’র কর্তব্য’। সেই কাজেও ব্যাপক সারা মিলেছিল। কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও