পূর্ব বর্ধমান :- জামালপুর থানার আঝাপুরে আইনজীবী মিতালি ঘোষকে খুনের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। তবে, মৃতার মোবাইলের সূত্র ধরে তদন্তে এগোচ্ছে বলে পুলিস সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে। কয়েকদিনে মিতালি দেবীর সঙ্গে মোবাইলে কাদের কথাবার্তা হয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিস। এছাড়াও ঘটনার সময়ে এলাকায় মোবাইল ফোনের ডাম্পিং পদ্ধতি ব্যবহার করে সূত্র খুঁজে পেতে চাইছে তারা।  খুনের ক্লু পেতে বিভিন্ন জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিস। মৃতার পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। এখনও তেমন ক্লু না মিললেও খুব শীঘ্রই ঘটনার কিনারা করা সম্ভব হবে আশাবাদী পুলিস।

তবে, মহিলা আইনজীবী খুনে বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। খুনের মোটিভ এখনও পুলিসের কাছে পরিস্কার নয়। মিতালি দেবী দেওয়ানি মামলা লড়তেন। সে কারণে খুনে পেশাগত শত্রুতা থাকার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে পুলিস।

খুনে এক নাকি একাধিক দুষ্কৃতি জড়িত তাও এখনও পরিস্কার নয় পুলিসের কাছে। তবে, একজনের পক্ষে আইনজীবীর হাত-পা বাঁধা সম্ভব নয় বলে মনে করছে পুলিস। খুনিরা আইনজীবীর পরিচিত কিনা তাও ভাবাচ্ছে পুলিসকে।

কোনদিক দিয়ে দুষ্কৃতি ঘরে ঢুকেছিল তাও এখনও পরিস্কার নয় পুলিসের কাছে। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। সিঁড়ির উপরে রাখা টব ভাঙা ছিল। বাড়ির পিছন দিক দিয়ে দোতলার ছাদ বেয়ে আততায়ীর নামার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেনা পুলিস। কেবলমাত্র লুট নাকি সম্পত্তিগত বিরোধ আইনজীবীকে খুনের পিছনে রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে, যেভাবে বেছে বেছে বাক্স খুলে সোনার গয়না লুট করা হয়েছে তাতে আততায়ী পরিচিত হতে পারে বলে মনে করছে পুলিস। লুটে বাধা পেয়ে নাকি দুষ্কৃতিকে চিনে ফেলার কারণে আইনজীবীকে খুন করা হতে পারে বলে পুলিসের ভাবনায় রয়েছে। ঘরের জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড অবস্থায় ছিল। কোনও বিশেষ নথি হাতানোই খুনির লক্ষ্য ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। এদিকে, সোমবার সিআইডির এক অফিসার জামালপুর থানায় যান। থানায় গিয়ে খুনের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন সিআইডির অফিসার। তবে, খুনের মোটিভ সিআইডির কাছেও পরিস্কার নয়।

অন্যদিকে, আইনজীবীকে খুনের প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বর্ধমান আদালতের আইনজীবীরা। এদিন বার অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারীরা জরুরি সভায় বসেন। সেখানে বুধ ও বৃহস্পতিবার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বার অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের সমস্ত আদালতের কাজকর্ম বন্ধ রাখার জন্য বার কাউন্সিলের কাছে আবেদন জানাচ্ছে বর্ধমান বার। এছাড়াও ঘটনার কিনারা এবং আইনজীবী ও এর সঙ্গে যুক্ত লোকজনের নিরাপত্তার দাবিতে বারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বারের সভায়। বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়ুক তা চাই।

আইনজীবীকে খুনের প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে ২ দিন কাজ বন্ধ রাখা হবে। এছাড়াও বার কাউন্সিলকে রাজ্যের সমস্ত আদালতে কাজকর্ম বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিস সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, দু’দিনে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি।