ক্রাইশ্চচার্চ: বড়সড় কোনও অঘটন না ঘটলে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম সিরিজ হারটা নিউজিল্যান্ডেই অপেক্ষা করে আছে ভারতীয় দলের জন্য। ক্রাইস্টচার্চে প্রথমদিনের রিপোর্টকার্ড দেখে ভারতকে নিয়ে আশা করবেন না হয়তো অতি বড় সমর্থকও। অর্ধশতরান এল পৃথ্বী শ, চেতেশ্বর পূজারা ও হনুমা বিহারীর ব্যাট থেকে। আর বাকিদের আসা-যাওয়ার মাঝেই প্রথমদিন শেষ হল ভারতের প্রথম ইনিংস।

যারা অর্ধশতরান করলেন তারা কেউই পারলেন না নিজেদের ইনিংসকে দীর্ঘায়িত করতে। ৫৪ রানে অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ল্যাথামের দুরন্ত ক্যাচে ফিরলেন পৃথ্বী। আর সম্প্রতি ব্যাটিং ভুলতে বসা বিরাট কোহলি যেন পণ করেছেন চলতি সিরিজে বড় রান করবেনই না। সাউদির বিষাক্ত ইনস্যুইংগারে নিশ্চিত লেগ বিফোর জেনেও ডিআরএস সিদ্ধান্তটা কেন যে নিলেন বোধগম্য হল না। ৩ রানে ফিরলেন অধিনায়ক। ডেপুটি রাহানের সংগ্রহে মাত্র ৭ রান।

তবু বিরতির আগে চেতেশ্বর পূজারার ও হনুমা বিহারীর ৮১ রানের পার্টনারশিপে চা-বিরতির আগে বেশ জমাটি লাগছিল ভারতকে। কিন্তু বিরতির আগে ব্যক্তিগত অর্ধশতরান পূর্ণ করে বিহারী (৫৫) আউট হতেই ফের ছন্দপতন। ১৯৪ রানে ৫ উইকেট খুঁইয়ে বসে ভারত।

এরপর আর ছন্দ খুঁজে পায়নি ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ। চা-বিরতির পর ৫৪ রানে ফিরলেন ‘ডিপেন্ডবল’ পূজারা। ব্যক্তিগত ১২ রানে জেমিসনের যে ডেলিভারিতে পন্ত আউট হলেন, তাতে পন্তের ব্যাটিংয়ের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। শেষদিকে ১৬ রান এল মহম্মদ শামির ব্যাট থেকে। ১০ রানে অপরাজিত রইলেন বুমরাহ।

ভারতীয় ইনিংসের শেষ ৬টি উইকেটের পতন হল মাত্র ৪৮ রানে। ২৪২ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হল ভারতের। কেরিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন কাইল জেমিসন। ২টি করে উইকেট সাউদি ও বোল্টের ঝুলিতে। ১টি উইকেট ওয়্যাগনারের।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ সাবলীল দুই কিউয়ি ওপেনার। ইশান্তহীন ভারতীয় পেস অ্যাটাকের ঝুলিতে নেই কোনও সাফল্য। যে পিচে ব্যাট হাতে নেমে জুজু দেখলেন ভারতীয় ব্যাটাসম্যানরা, সেই পিচে দিব্যি বুমরাহ-যাদব-শামিদের সামলে গেলেন টম ল্যাথাম ও টম ব্লান্ডেল। দিনের শেষে বিনা উইকেটে ৬৩ নিউজিল্যান্ড।

যথাক্রমে ২৭ ও ২৯ রানে অপরাজিত ল্যাথাম ও ব্লান্ডেল। আপাতত ১৭৯ রানে পিছিয়ে কিউয়িরা। দ্বিতীয়দিন প্রথম সেশনে নিউজিল্যান্ড টপ-অর্ডারে থাবা না বসাতে পারলে ম্যাচ সেইসঙ্গে সিরিজও যে ভারতের হাতের বাইরে চলে যাবে, বিলক্ষণ জানেন সবাই।