শারজা: প্লে-অফের প্রশ্নে ম্যাচটার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। পঞ্জাবের তুলনায় লিগ টেবিলে কিছুটা এগিয়ে থেকে সোমবার শারজায় শুরু করেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। পঞ্জাব ম্যাচটা জিতলে প্লে-অফের অঙ্কটা বেশ কিছুটা সহজ হয়ে যেত নাইটদের জন্য। পক্ষান্তরে টানা চার ম্যাচ জিতে পঞ্জাব ছিল তক্কে। নাইটদের হারিয়ে তাদেরই টপকে লিগ টেবিলে প্রথম চারে ঢুকে পড়ার অপেক্ষায় ছিল রাহুল অ্যান্ড কোম্পানি।

শারজা স্টেডিয়ামে এদিন ঘটল দ্বিতীয়টাই। গত ম্যাচে দারুণ ফর্মে থাকা দিল্লিকে হারালেও কলকাতা চলতি টুর্নামেন্টে যে মোটেই ধারাবাহিক নয়, এদিন আরও একবার প্রমাণ হল। পার্পল ব্রিগেডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিল পঞ্জাব। একইসঙ্গে নাইটদের টপকে চার নম্বরে উঠে এসে প্লে-অফের প্রশ্নে বড়সড় লাফ দিল তারা। শারজায় এদিন টস জিতে প্রথমে নাইটদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান পঞ্জাব অধিনায়ক কেএল রাহুল। ১০ রানে ৩ উইকেট হারানো নাইট শিবিরে ত্রাতা হয়ে দেখা দেন শুভমন গিল এবং অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান।

চূড়ান্ত ব্যর্থ নাইট ব্যাটিং চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের পার্টনারশিপে ভর করে লড়াইয়ে ফেরে। গিল-মর্গ্যানের জুটিতে ওঠে ৮১ রান। ২৫ বলে ঝোড়ো ৪০ রান করে দলকে ১০০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে আউট হন মর্গ্যান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার এবং ২টি ছয়। মর্গ্যান অর্ধশতরান হাতছাড়া করলেও অর্ধশতরান পূর্ণ করে দলকে লড়াই করার রসদ জুগিয়ে দেন শুভমন গিল। তাঁর ৪৫ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার এবং ৪টি ছয়। শেষদিকে ১৩ বলে ২৪ রানের ‘ক্যামিও’ খেলেন ফার্গুসন। এছাড়া বাকি নাইট ব্যাটসম্যানদের কেউই দু’অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি।

২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান তোলে নাইটরা। জবাবে শুরু থেকেই সাবলীল পঞ্জাবের দুই ওপেনার কেএল রাহুল এবং মনদীপ সিং। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২৮ রানে রাহুল আউট হলেও থামানো যায়নি মনদীপকে। দ্বিতীয় উইকেটে ক্রিস গেইলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। শারজার ছোট মাঠে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ক্রিস গেইলও। ২টি চার এবং ৫টি ছয়ে মাত্র ২৯ বলে ৫১ রান করেন ‘ইউনিভার্স বস’। দলকে জয়ের পথ দেখিয়ে আউট হন গেইল। অন্যদিকে ওপেনে নেমে অ্যাঙ্কর ইনিংসে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন মনদীপ। জয় থেকে তিন রান দূরে দাঁড়িয়ে গেইল আউট হলেও ৫৬ বলে অপরাজিত ৬৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন মনদীপ।

মনদীপের ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ২টি ছয়। এদিন পঞ্জাব ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ন্যূনতম ভয়ের সঞ্চার করতে ব্যর্থ হন নাইট বোলাররা। একটি করে উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্তী এবং লকি ফার্গুসন। কিন্তু সেগুলো কোনও কাজে আসেনি। বরং আগাগোড়া আধিপত্য রেখেই ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়ে নেন পঞ্জাব ব্যাটসম্যানরা। একইসঙ্গে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চারে উঠে এল পঞ্জাব। সমসংখ্যক ম্যাচে একই পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে পাঁচ নম্বরে নাইটরা। সবমিলিয়ে চতুর্থস্থানের লড়াই জমে উঠল বলা যায়।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।