কলকাতা২৪x৭: শাল মহুয়ার জঙ্গলে চাক চাক জমে থাকে অমূল্য বনজ সম্পদ অর্থাৎ বিজ্ বিজ্ করা পিঁপড়ের দল। এরা গুটিগুটি অজস্র ডিম পাড়ে। সেই ডিম গরীবের খাবার! মানুষ পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বাঁচে!! খবরটা অনেক আগে ছড়িয়েছিল। তখন নগর জীবন শিহরিত হয়েছিল।

পিঁপড়ের ডিম-কুরকুট। এটাই পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার জঙ্গল ঘেরা এলাকার অমূল্য বনজ সম্পদ। যে কোনও মাছের আড়ত সংলগ্ন বাজারে দাম কেজি প্রতি কম বেশি ৭০০টাকা। তার মানে ভালো দার্জিলিং কার্সিয়াংয়ের গন্ধ চায়ের সমান ‘কুরকুট’ মূল্য।

পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলের সীমানা পেরিয়ে ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, ছত্তিসগড়ের যে বিস্তির্ণ বনাঞ্চল, সেখানেও কুরুকট বিশেষ পরিচিত। আর এই কুরকুট নিয়ে রাজনৈতিক হাওয়া গরম করা হয়, তবে সেই রটনা যাই হোক, জঙ্গল সন্তানদের জীবনের সঙ্গে কুরকুট স্বাদ জড়িয়ে।

হুল ফোঁটানো তীব্র জ্বালা ধরানো লাল পিঁপড়ের চাক ভাঙা ডিম কুরকুট খেতে টক। জঙ্গল জীবনের ‘প্রেস্টিজিয়াস ফুড’। কারণ, এই ডিম সংগ্রহ করা খুব কঠিন ও সময় লাগে বিস্তর। ডিংলার ঝাল (বেগুনের তরকারি) ও কুরকুট টক নিজস্ব রীতির অতিথি আপ্যায়ণ তালিকায় থাকে।

আমলাশোল! সংবাদ মাধ্যমের খবরে উঠে আসা খাদ্যহীন মানুষের পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বাঁচার চেষ্টা রাজ্যবাসী কে শিবরিত করেছিল। পরে বিভিন্ন তথ্যে ধরা পড়েছে সেই পিঁপড়ের ডিমের বিস্তারিত কথা। যদিও জঙ্গলমহলের অরণ্যচারী মানুষরা কুরুকুট খাওয়া ছাড়েননি।

শাল পাতায় রেখে সেটা পুড়িয়ে খাওয়া হয় কুরুকুট। সঙ্গে লঙ্কা পোড়া, পেঁয়াজ। আর কাঁচা কুরকুটের ভিটামিন সি পরিমাণ নিয়ে গবেষণা চলছে। প্রকৃতির দান কুরকুট ওষুধ। জঙ্গল জীবনের ওষুধ।

কুরকুট খাওয়ার ছবি দেখে কলকাতা সহ নগর জীবনের ধুঁকতে থাকা মানুষদের নাক সিঁটকিয়ে উঠেছিল। মজার কথা, শীত হোক বা গরম জঙ্গলমহল ভ্রমণে গিয়ে তাদেরই অনেকে কুরকুট খান।

কুরকুট এখন পরিচিত শব্দ। শাল পলাশ মহুয়া ছড়িয়ে থাকা গ্রামাঞ্চলের খাবার নিয়ে বিতর্কের জবাব এর খাদ্যগুণ অনবরত আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ, এই অমূল্য বনজ সম্পদের সঠিক বিপনন চিন্তা নেই। কুরকুট সংগ্রহ ও বিক্রি খাওয়া সবই আদিবাসী জনজীবনের অঙ্গ।

জঙ্গলমহলের বিস্তির্ণ এলাকা থেকে ঝাঁঝালো টকটক স্বাদের কুরকুট বা মহুয়ার মোল সবই চমকে দেয়, যারা নিতে পারেন তারা জানেন। চাক ভাঙা মধুর বিস্তর গুণ। চাক ভাঙা কুরকুট তারও বিস্তর গুণাবলী। নাক একটু কম সিঁটকাতে পারে এবার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।