কলকাতা: গত শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন সাংবাদিক তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ ৷ তাঁর ওই বৈঠক নিয়ে নানামহলে চর্চা জল্পনা ও প্রশ্ন ওঠায় কুণাল ফেসবুকে একটি পোস্ট করলেন৷

বহুদিন পর মমতা- অভিষেকের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ায় ওই পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি পরিবর্তনের আন্দোলনের একজন পুরনো দিনের সৈনিক। কখনও দলবদলের কথা ভাবি নি। বলি নি। বারবার বলে এসেছি, কোনো ইস্যুভিত্তিক মতপার্থক্য থাকলেও আমি দল ছাড়ি নি। এমনকি বন্দিদশাতেও দলকে সাংসদ হিসেবে সদস্যপদের চাঁদা দিয়ে গেছি। সাংসদ পদের মেয়াদ শেষের পরেও রাজনৈতিকভাবে অবস্থান বদল করি নি। এমতাবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী ও যুবনেতা সাংসদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। বহুদিন পর এভাবে কথা। ঐটুকুই। বাকিটা সময় বলবে।’’

ওই পোস্টে তিনি নিজেকে আদৌ ঝানু রাজনীতিবিদ নন বলে দাবি করে লিখেছেন, ‘‘সাধারণভাবে কোনো দল কখনও একটু ধাক্কা খেলে বা অন্য কোনো দল বিকল্প হওয়ার চেষ্টায় শক্তি বাড়ালে, এদিক থেকে ওদিকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আমি ঝানু রাজনীতিবিদ নই। আমি উপেক্ষিত, অপমানিত থেকেও যদি পুরনো স্রোতকে ত্যাগ করার কথা না ভাবি, দয়া করে আমার মানসিকতাটা একটু গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। যে স্রোতকে এখন ত্যাগের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকত্ব নেই, বীরত্বও নেই; কিছু অভিমান, প্রতিবাদ থাকা সত্ত্বেও না হয় এই স্রোতছাড়ার হিড়িক থেকে নিজেকে দূরে রাখলাম। বাকিটা সময় বলবে।’’

যদিও সাংবাদিক হওয়ার সুবাদে তাঁর সঙ্গে অন্য দলের নেতাদের বন্ধুত্ব থাকলেও সেটা দল বদলের কথা ভেবে করা হয় না বলেই কুণাল দাবি করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ‘‘ দীর্ঘকাল ধরে আমি সাংবাদিকতায়। পরে রাজনৈতিক বৃত্তে। বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীদের আমি চিনি। পরিচয় আছে। কয়েকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব খুবই ভালো। সব দলের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। কয়েকজন নেতানেত্রী বেশ ভালো। আড্ডাও মারা যায়। আর নতুন আলাপ হওয়াদের আমি প্রথমেই বলে রেখেছি, আমি কিন্তু কোনো দলবদলের কথা ভেবে বা জমি তৈরি করতে সম্পর্ক রাখি না।’’

তবে তিনি ওই পোস্টে নতুন সংগঠন ‘নব জাগরণ’ নিয়েও ব্যাখ্যা করেছেন৷ কুণাল লিখেছেন, ‘‘প্রস্তাবিত নতুন নাগরিক সংগঠন, যার প্রস্তাবিত নাম “নবজাগরণ” তার আড়ালে কোনো দল বা ব্যক্তি নেই। বিভিন্ন জগতের কিছু মানুষ একজোট হয়ে কিছু করার চেষ্টা। সব দলমতের নাগরিক আছেন। মূলত বাংলার নিজস্বতা ও ঘরানা অটুট রাখা ; চলতি অস্থিরতা ও অবক্ষয়ের বিরোধিতা এবং বাংলার গৌরব ফেরানো বা সুরক্ষিত রাখার জন্য সওয়াল- এটাই মূল উদ্দেশ্য। সাড়া খুব ভালো। একটি বড় সম্মেলনের কথা চলছে। পরিবর্তনের আন্দোলনের পুরনো কর্মীরা যেমন থাকছেন, তেমনই থাকছেন আরও নানা জগতের মানুষ। আগামী যা কর্মসূচি সবাই মিলে ঠিক হবে, তা সকলকে জানানো হবে অবশ্যই।’’

এক নজরে ফেসবুকে কি লিখেছেন কুণাল?(হুবহু তুলে ধরা হয়েছে তাঁর মন্তব্য)

1/6/19 শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। কিছু কথা হয়েছে। এনিয়ে বহু চর্চা, জল্পনা, প্রশ্ন শুনেছি। বহু মন্তব্য ইতিবাচক। কিছু মন্তব্য নেতিবাচক।

এই প্রসঙ্গে আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য :
1) আমি পরিবর্তনের আন্দোলনের একজন পুরনো দিনের সৈনিক। কখনও দলবদলের কথা ভাবি নি। বলি নি। বারবার বলে এসেছি, কোনো ইস্যুভিত্তিক মতপার্থক্য থাকলেও আমি দল ছাড়ি নি। এমনকি বন্দিদশাতেও দলকে সাংসদ হিসেবে সদস্যপদের চাঁদা দিয়ে গেছি। সাংসদ পদের মেয়াদ শেষের পরেও রাজনৈতিকভাবে অবস্থান বদল করি নি। এমতাবস্থায় দলের সর্বোচ্চ নেত্রী ও যুবনেতা সাংসদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। বহুদিন পর এভাবে কথা। ঐটুকুই। বাকিটা সময় বলবে।

2) দীর্ঘকাল ধরে আমি সাংবাদিকতায়। পরে রাজনৈতিক বৃত্তে। বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীদের আমি চিনি। পরিচয় আছে। কয়েকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব খুবই ভালো। সব দলের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য। কয়েকজন নেতানেত্রী বেশ ভালো। আড্ডাও মারা যায়। আর নতুন আলাপ হওয়াদের আমি প্রথমেই বলে রেখেছি, আমি কিন্তু কোনো দলবদলের কথা ভেবে বা জমি তৈরি করতে সম্পর্ক রাখি না।

3) আমিও মানুষ। জ্ঞানত কোনো অন্যায় করি নি। চক্রান্ত, অত্যাচারের শিকার। মাথা উঁচু করে লড়েছি। আইনি লড়াই অব্যাহত। কিন্তু অভিযোগ, অভিমান যাদের বিরুদ্ধে, তার একাংশ যদি দলবদল করে অবস্থান বদলায়, আমার মানসিকতাতেও তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক নয় কি? ঈশ্বরের অসীম কৃপা, আমি এখনও বেঁচে এবং আমি এখনও সক্রিয়। যে অসংখ্য ব্যক্তি আমার যন্ত্রণা আর কঠিন যাত্রাপথটা বোঝেন, অবিরাম উৎসাহ দেন, তাঁদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

4) প্রস্তাবিত নতুন নাগরিক সংগঠন, যার প্রস্তাবিত নাম “নবজাগরণ” তার আড়ালে কোনো দল বা ব্যক্তি নেই। বিভিন্ন জগতের কিছু মানুষ একজোট হয়ে কিছু করার চেষ্টা। সব দলমতের নাগরিক আছেন। মূলত বাংলার নিজস্বতা ও ঘরানা অটুট রাখা ; চলতি অস্থিরতা ও অবক্ষয়ের বিরোধিতা এবং বাংলার গৌরব ফেরানো বা সুরক্ষিত রাখার জন্য সওয়াল- এটাই মূল উদ্দেশ্য। সাড়া খুব ভালো। একটি বড় সম্মেলনের কথা চলছে। পরিবর্তনের আন্দোলনের পুরনো কর্মীরা যেমন থাকছেন, তেমনই থাকছেন আরও নানা জগতের মানুষ। আগামী যা কর্মসূচি সবাই মিলে ঠিক হবে, তা সকলকে জানানো হবে অবশ্যই।

5) সাধারণভাবে কোনো দল কখনও একটু ধাক্কা খেলে বা অন্য কোনো দল বিকল্প হওয়ার চেষ্টায় শক্তি বাড়ালে, এদিক থেকে ওদিকে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। আমি ঝানু রাজনীতিবিদ নই। আমি উপেক্ষিত, অপমানিত থেকেও যদি পুরনো স্রোতকে ত্যাগ করার কথা না ভাবি, দয়া করে আমার মানসিকতাটা একটু গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। যে স্রোতকে এখন ত্যাগের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকত্ব নেই, বীরত্বও নেই; কিছু অভিমান, প্রতিবাদ থাকা সত্ত্বেও না হয় এই স্রোতছাড়ার হিড়িক থেকে নিজেকে দূরে রাখলাম। বাকিটা সময় বলবে।

অতীত সবাই জানি। বর্তমান দেখছি। ভবিষ্যৎ তো ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.