স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের প্রায় কয়েক হাজার ক্লাবকে দু’লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ এরমধ্যে বড়সড় কেলেঙ্কারি লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন সাংসদ-সাংবাদিক কুণাল ঘোষ৷ মঙ্গলবার তিনি জাবি জানিয়েছেন, সিবিআই অথবা ইডিকে দিয়ে ক্লাব কেলেঙ্কারির তদন্ত করা হোক৷

ক্লাবগুলোকে দু লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সব সমালোচনা হজম করে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখার পর এই অনুদান দেওয়া নিয়ে আক্ষেপই করছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফলের পর রিভিউ কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন দিদি।

বিশেষ সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে খারাপ ফলের জন্য অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অরূপ বিশ্বাসকেও কড়া কথা শুনিয়েছেন মমতা। সেদিন অরূপের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “ক্লাবগুলোকে যে টাকা দিলি তাতে কি লাভ হল? সব তো বিজেপিকে ভোট দিল। আমি তোকে টাকা দিতে বারণ করছি না। কিন্তু এবার টাকা দেওয়ার আগে ক্লাবগুলোর অডিট রিপোর্ট দেখে নে।” উল্লেখ্য, ক্রিড়া ও যুব কল্যাণ দফতর ক্লাবগুলোকে দু’লাখ করে টাকা দিয়েছিল। সেই দফতরের মন্ত্রীই হলেন অরূপ বিশ্বাস।

এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়া নিয়ে এখন কথা উঠছে৷ আমার মনে হয় টাকা দেওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী হয়তো সদিচ্ছাই দেখাতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু যাঁরা সুপারিশ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে কোনও ভুল-ভ্রান্তি ছিল৷ তা না হলে এমন অনেক ক্লাব টাকা পেয়েছে যাদের কোনও অস্তিত্ব নেই৷ হয়তো পরে দেখা গিয়েছে সেখানে শুধু ফুটপাথ রয়েছে৷আমি চাই সিবিআই অথবা ইডিকে দিয়ে ক্লাব কেলেঙ্কারির তদন্ত করা হোক৷ কুণাল বলেন, যদি রাজ্য সরকার তদন্তের ভার না নেয় তাহলে হোক নবজাগরণের আইনি সেল বিষয়টি দেখবে৷

কয়েকদিন আগেই কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন একদা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘক্ষণ কথা হয়৷ আবার বিজেপির মুকুল রায়ের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে খবর৷ হোক নবজাগরণের ব্যানারে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য শুনে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আপাতত মমতার একসময়ের ছায়াসঙ্গী এখন ব্যালান্স করে চলছেন৷ তবে ক্লাব কেলেঙ্কারির ইস্যুকে যদি বিজেপি হাতিয়ার করে তাহলে শাসক দল যে চাপে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷