ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সোমবার সকালের মধ্যে চালু করতে হবে পরিষেবা৷ এই দাবিতে আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে অবস্থান আন্দোলনের ডাক দিল ‘নবজাগরণ মঞ্চ’৷ এই মঞ্চের অন্যতম সদস্য তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ, আহ্বায়ক বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷

ফেসবুক এদিন কুণাল ঘোষ ‘নবজাগরণ মঞ্চে’র কর্মসূচি সম্পর্কে পোস্ট করেন৷ যার নাম দেন ‘হোক নবজাগরণ’৷ সংগঠনের মূল দাবি ডাক্তারদের দাবি সমর্থনযোগ্য৷ কিন্তু, গরূব মানুষের কথা ভেবে চিকিৎসা পরিষেবা সচল থাকুক৷ মুখ্যমনত্রীর সঙ্গে আলোচনা হোক আন্দোলনকারীদের৷ সরকারি হস্তক্ষেপের দাবিও করা হয়েছে৷

কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট আনুযায়ী অবিলম্বে তাদের এই দাবি মেটাতে হবে৷ না হলেই এনআরএসের বাইরে অনশন কর্মসূচি শুরু হবে৷

পর পর দুদিন মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে হাজির হননি আন্দোনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা৷ তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নবান্নে কোনও আলোচনা হবে না৷ এনআরএসেই আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷ কিন্তু, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানও সেখানে যেতে নারাজ৷ মুখ্যমন্ত্রী গতকালই বলেছিলেন, প্রয়োজনে রাজ্যপাল ও রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন আন্দোলনকারীরা৷

জুনিয়রদের ডাক্তারদের জিবি বৈঠক হয় রবিবার৷ সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, জুনিয়র চিকিৎসকরা সমস্যার সমাধান চায়৷ তবে আলোচনার জায়গা নির্বাচন করতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেই৷ এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি দাবি রয়েছে তাদের৷ যেমন, ‘রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধি সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন৷ প্রকাশ্যে হবে আলোচনা৷

আলোচনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার৷ কিন্তু, আলোচনার পথ খুললেও বৈঠকে আন্দোলনকারি জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বাড়ছে জটিলতা৷ জুনিয়র ডাক্তারদের দবি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজের পাঁচজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকুক৷ রাজি নয় নবান্ন৷ যা নিয়ে অব্যাহত আন্দোলনকারী ও রাজ্য প্রশাসনের চাপানউতোর৷ এছাড়াও রাজ্যের প্রস্তাব নবান্ন সভাগৃহে আলোচনা হোক৷ তবে সংবাদ মাধ্যম সেখানে থাকবে না৷

‘নবাজারণ মঞ্চে’র তরফে তাদের প্রস্তাব, কর্মসূচি, মূল বক্তব্য সমুহ নিম্নরূপ…

হাসপাতাল চালুর বৈঠক নিয়ে “হোক নবজাগরণ”-এর রফাসূত্র। সচল করতে সোমবার বেলা বারোটা থেকে এন আর এসের উল্টোদিকে অবস্থান, অনশনের ডাক।

প্রস্তাব: অবিলম্বে বৈঠকে বসুন মুখ্যমন্ত্রী ও আন্দোলনকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের নবান্নে ডাকছেন। আর আন্দোলনকারীরা অনেকে যেতে চান, ছোট চেম্বারে সম্ভব নয়।
ফলে সরকার নবান্নের অডিটোরিয়ামে বা টাউন হলে বৈঠক ডাকুন। আন্দোলনকারীরা যান।
বৈঠকে মিডিয়াকে থাকতে দিতে হবে, এই জেদ যেন বৈঠকের পক্ষে বাধা না হয়।
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি ও বক্তব্যে সমর্থন আছে। তাদের অভিমানের কারণও আছে। কিন্তু এতদিন হাসপাতাল অচল থাকলে মানুষের, বিশেষত গরিব মানুষের খুব সমস্যা হচ্ছে। দুপক্ষই ইগো ছেড়ে বৈঠকে বসুন।

কর্মসূচি: যদি দুই পক্ষ নমণীয় হয়ে হাসপাতাল চালু না করেন, তাহলে অবিলম্বে অচলাবস্থা কাটানোর দাবিতে
এন আর এসের উল্টোদিকে অবস্থান অনশন। বেলা বারোটা থেকে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। সব পেশার নাগরিকদের পক্ষে দাবি থাকবে, হাসপাতাল চালু হোক।
রবিবার বিকেলে এন আর এসে গেছিলাম। ঢুকি নি। গেটের বাইরে। ছিলেন যুবনেতা সজল ঘোষ, শিক্ষক ও যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন, সাংবাদিক অভিজিৎ ঘোষসহ বহু সমাজসেবী, ছাত্রযুবনেতা ও সমর্থক।

মূল বক্তব্য: ডাক্তারদের দাবিতে যুক্তি আছে। তবে এতদিন হাসপাতালে অচলাবস্থা চলতে পারে না। সরকার অবিলম্বে কার্যকরী হস্তক্ষেপ করুক।