স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ সঙ্গে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুনাল ঘোষ৷ বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পেজে সরব হন তিনি৷

ফেসবুকে কুনাল ঘোষ লিখেছেন, ‘‘শোভনদা, যখন আমি প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি, তখন অন্যায়ভাবে আমার MP LAD তহবিলের কাজ বন্ধ রেখেছিল আমার নোডাল এজেন্সি কলকাতা পুরসভা। তৎকালীন মেয়র ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, আমার বরাদ্দ ৪০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স থেকে এমপি হিসেবে আমার নাম মুছে দেওয়া হয়। আমার প্রস্তাবের ক্লাব বা সংগঠনকে না দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমত বিতরণ করে। এর তালিকা আজও DG,MP LAD এর কাছে নেই। আমি চিঠি দিয়েও তার সদুত্তর পাইনি।’’

তিনি আরও লেখেন, ‘‘একসময় আমি মাকে বললাম ( মা তখন বেঁচে এবং শোভনদা আগে একাধিকবার আমার বাড়িতে এসেছেন) শোভনদাকে ফোন করে এমপি ল্যাড এর কাজ আটকে থাকার জট খোলার অনুরোধ করতে। শোভনদাই তখন মেয়র। মা ফোন করেছিলেন। শোভনদা বলেছিল, “দেখছি।” সেই জট খোলে নি। আমার তহবিলের কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। পরে আমি কলকাতা হাইকোর্টে যাই, তখন জট খোলে। শোভনদা আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। তাঁর কাছ থেকে সেদিন এসব আশা করিনি।’’

কুনালের বক্তব্য, ‘‘শোভনদাকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে নীতির কথা বলতে দেখে মনে হচ্ছিল জিজ্ঞেস করি, আমার বন্দিদশার সুযোগ নিয়ে আমার সাংসদ তহবিলের কাজ আটকে রাখা হয়েছিল কোন্ নীতিতে? আমার বরাদ্দ ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধনের আগে সেগুলি থেকে আমার নাম মোছা হয়েছিল কোন্ নীতিতে? আর আমার (অর্থাৎ এম পির) তালিকার বাইরে সেই ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স বিলি করা হয়েছিল কাদের এবং কোন্ নীতিজ্ঞানে? পুরসভায় আমার প্রতিবাদী চিঠি এখনও জীবিত, যার কোনো উত্তর আসে না। তাই বলছি,শোভনদা, আর যাই বলো, নীতির কথা বোলো না।’’

কুনাল ঘোষের এই পোষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমা নামে একজনও শোভনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন, তিনি লিখেছেন, পুরসভায় ,বেআইনী unautorished construction ভাঙার ব্যাপারে লেটার দিয়েও কাজ হয়নি ,একদিন সরাসরি তার অফিসে যাই ,তিনি তার PA এর কাছে শুনে আমার লেটার নিয়ে ছুড়ে দূরে ফেলে দেন ,আর বলেন দূর ছাড় তো এসব ,আমি ওখানে পাশেই যে দাঁড়িয়ে ছিলাম তা উনি বুঝতে পারেননি ,আমি চেঁচিয়ে উঠতেই উনি সুন্দর নাটক করলেন আর বললেন পরে গেল তুলে দে ,আবার মলম দেয়ার জন্য বললেন বসুন ,আমি দেখলাম যাদের জন্য তিনি ওই সিট এ তাদের প্রতি এত tachhilo এত আত্ম অহংকার ,তাদের কি একটুও মনে হয়না chair এর অবমাননা তিনি করছেন৷

এখন প্রশ্ন উঠেছে শোভনকে নিয়ে এতদিন কুনাল ঘোষ কেন সরব হননি? বিজেপি গিয়েছে বলেই কি এখন তার এই বিষদগার৷