নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সারদাকাণ্ডে’র সিবিআই তদন্ত নিয়ে কোচবিহারে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মোদীর চিটফান্ড কটাক্ষের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী’র অভিযোগ, সারাদাকাণ্ডে অসমে’র উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিরুদ্ধে টাকা নেওয়া’র অভিযোগ থাকলেও সিবিআই ব্যবস্থা নেয়নি৷ কোচবিহারে, মমতা’র এই বক্তব্যকে পুঁজি করেই এবার মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ট রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূলে’র প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ৷

এদিন ফেসবুকে পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ৷ সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী’র বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন তিনি৷ কুণালবাবুর মতে, এই তথ্য নতুন নয়। ২০১৩ সালে সারদা পতনের সময় থেকেই সামনে ছিল। তারপর প্রায় এক বছর তদন্ত ছিল মুখ্যমন্ত্রী’র গঠন করে দেওয়া সিটের হাতে। যার নিয়ন্ত্রক ছিলেন আইপিএস রাজীব কুমার৷ সিবিআই ব্যবস্থা নেয় নি ঠিক-ই৷ কিন্তু যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পেয়েও খবর থাকা সত্ত্বেও এই বিষয়ে পদক্ষেপ করেনি সিট৷ কী কারণে তা হল না? ফেসবুক পোস্টে জানতে চেয়েছেন শাসক দলের এই প্রাক্তন সাংসদ৷ কুণাল ঘোষও অবশ্য সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত৷ আপাতত জামিনে মুক্ত তিনি৷

এর আগে সারদা কর্ণধারে’র একটি চিঠি জনসমক্ষে আনেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘এই চিঠিতেই হিমন্ত বিশ্বশর্মার টাকা নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। বিজেপি করলেই সাত খুন মাফ’। এরপর বুধবার রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদী চিটফান্ড ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা করেন৷ তারই জবাবে ফের হেমন্ত বিশ্বশর্মী প্রসঙ্গে উথ্থাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

কুণাল ঘোষের দাবি, কেন তথ্য থাকা সত্ত্বেও তখন আসামের ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি সিট, প্রশ্নটা আগে রাজীবকুমারকে জিজ্ঞেস করা হোক। ‘শ্রেষ্ঠ’ পুলিশ অফিসার বলে প্রশংসা যখন রাজীব পান, তখন কৈফিয়তের দায়টাও প্রথমে তাঁরই বর্তায়।

আরও পড়ুন: প্রচার সভায় কেঁদে ফেললেন নেত্রী জয়াপ্রদা

এই প্রথম নয়৷ কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল ও সারদা তদন্তে রাজ্যের তৈরি সিটে’র প্রধান রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে এর আগেও সরব হয়েছেন প্রাক্তন এই সাংসদ৷ সিট তদন্তে নেমে বহু তথ্য প্রমাণ সরিয়ে ফেলেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি৷ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে সারদা তদন্তেই শিলং-এ রাজীব কুমার ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারীরা৷ সেই জেরায় বেশ কিছু নথি সিবিআই গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেন কুণাল ঘোষ৷ জেরা শেষে নিজেই সে কথা জানান তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ৷