স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্থানীয় মহিলারা সন্দেশখালিতে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনার সমালোচনা করলেন বির্তকিত তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ৷ রাজ্যে বিরোধী দলের নেত্রীকে এভাবে বাধা দেওয়া ঘটনা প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে প্রশ্ন তুলেছেন- ‘‘লকেটের সফর আটকানোর খেলা বুমেরাং হবে না তো৷’’

ওই পোস্টে কুণাল লিখেছেন, ‘‘বৃহস্পতিবার লকেট চট্টোপাধ্যায় বাংলার “নির্ভয়া”র গ্রামে যাচ্ছিলেন। দোষীদের গ্রপ্তার দাবি করছিলেন। সন্দেশখালির সেই জায়গায় তিনি যেতে পারেন নি। নৌকো থেকেই নামতে পারেন নি। সংগঠিত মহিলাদের আক্রমণাত্মক প্রতিবাদে তাঁকে মাঝপথে থামতে হয়।’’

আরও পড়ুন: সততা থাকলে অভিষেকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন করুক মমতা: কুণাল

এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘ যারাই পিছনে থাকুক, পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত না হলে এত মহিলা একজায়গায় একসঙ্গে আসা অসম্ভব। যেন লকেটকে ঠেকানোর জন্যই এই আয়োজন করে রাখা হয়েছিল। লকেট নানাপ্রান্তে ঘুরছেন। তার একটা প্রভাবও পড়ছে। সেইজন্যই মাঝেমাঝে লকেটের সফরে বাধার খবর আসছে। উত্তরবঙ্গ, বীরভূম, সন্দেশখালি শুধু নয়, কলকাতায় কোনও ঘটনার পর হাসপাতাল যেতে গেলেও বাধা। এতে অন্তত এটা প্রমাণিত, লকেটের সফরকে শাসক দল গুরুত্ব দিচ্ছে।’’

কুণালের মতে তাঁর মমতাদির আচরণে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে৷ দিদির বর্তমান আচরণ দেখে কুণাল লিখেছেন ‘‘তিনি সংঘর্ষে নিহত কারুর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বা কোনও ধর্ষিতার কাছে গিয়ে মনের জোর বাড়াচ্ছেন, এরকম ছবি শেষ কে কবে কোথায় দেখেছেন? শুধু সেলিব্রিটি কারুর মৃত্যু হলে মমতা যান। ঠিক যে কারণে বিশিষ্টদের জন্ম মৃত্যুদিনের প্রচারে সেই ব্যক্তির সঙ্গে লজ্জাহীনভাবে নিজের মুখের ছবি দিয়ে এই আলোটাও গায়ে মাখতে চান, সেইকারণেই সেলিব্রিটি মৃত্যুতে মমতাদি যান। কিন্তু তৃণমূল কর্মী নিহত হলেও মমতাদি গেছেন, এর উদাহরণ তো এখন অতীতের গর্ভে নিমজ্জিত । উল্টে কুকর্মগুলিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা৷’’

আরও পড়ুন: কন্যাশ্রীর উপর বামদের নিয়ে বিতর্ক চাইলেন কুণাল

পাশাপাশি ওই লেখাটিতে কুণাল মনে করানোর চেষ্টা করেছেন কেমন করে নেত্রী হিসেবে মমতার উত্থান হয়েছে৷ সেই কথা মনে করাতে গিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে প্রশ্ন রেখে কুণাল লিখেছেন, ‘‘এখানেই প্রশ্ন, বামজমানায় বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতাদি বারবার ঘটনাস্থলে যান নি? ধর্ষিতাকে নিয়ে মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের সামনে বসেন নি? খুন, ধর্ষণ, অত্যাচারে ঘটনাস্থলে যান নি? গেছেন। সঙ্গে মিডিয়া নিয়ে গেছেন। প্রচার হয়েছে। এটা স্বাভাবিক। গণতন্ত্রে বিরোধী পক্ষ যাবে, তাদের কথা বলবে, এতে কোনও ভুল নেই। মমতাদি দিনের পর দিন এটা করেই মমতা হয়েছেন।’’

আরও পড়ুন: মমতাকে প্রথম ‘অগ্নিকন্যা’ কে বলেছিলেন ফাঁস করলেন কুণাল

একদা দিদির অতি ঘনিষ্ঠ থাকা কুণালের অভিমত, “শ্রী” সিরিজের টাকার বন্যায় সুবিধাভোগী ও সমর্থকের ভিত্তি বাড়ছে, বাড়ুক, বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু, সেই জোর যদি গণতন্ত্রে বিরোধী কন্ঠরোধে ব্যবহার হয়, তাহলে যে বিশ্রী সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষতা করা হবে, তা কিন্তু ভবিষ্যতে আত্মঘাতী কিছু অপ্রিয় ঘটনার জন্ম দিতে পারে।’’

আরও পড়ুন: দলবদলে দুই ব্যতিক্রমী মান্নান ও তপন শিকদার: কুণাল