সৌমেন শীল, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে ইফতার পার্টিতে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মুসলিম তোষণের বিষয়টিও স্বীকার করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, “যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও খাওয়া উচিত।”

নেত্রী এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, “আমি এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করছি।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “আমি মনে করি ক্রমাগত এই ধরণের ভাবনা এবং ক্রিয়াকলাপে বিজেপিকেই পাল্টা উগ্র হিন্দুত্বের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।”

শনিবার দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নেত্রী মমতা। রাজ্যে বিজেপির উত্থান চাপ বাড়িয়েছে তৃণমূল শিবিরে। খুব স্বাভাবিকভাবেই যা নেত্রীর রক্তচাপ বাড়িয়েছে। কিন্তু রাগের মাথায় এই ধরনের বক্তব্যকে একেবারেই সমর্থন করছেন না দলের দুর্দিনের সঙ্গী। দায়িত্বশীল পদে থাকা রাজনীতিবিদরা মাথা গরম থাকলে মনের কথা যদি এইভাবে বেরিয়ে আসে, তাহলে তা গভীর উদ্বেগের বলে দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ।

এদিন সংসদের সেন্ট্রাল হলে এনডিএ শিবিরের সাংসদদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি বিরোধীরা প্রতারণা করে তাঁদের ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোদী।

আর এদিনই সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্য আসলে সেই বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে বলেই মনে করছেন কুণালবাবু। তাঁর কথায়, “যে গরু দুধ দেয়, তার লাথি খেতেও রাজি! এই প্রচলিত বাক্য কীসে প্রয়োগ করলেন? কী বোঝাতে চাইলেন? মুসলিম ভোট এবার পুরো তৃণমূলে পড়েছে এবং রক্ষা করেছে, এটা নির্বাচনী অঙ্ক। সেটা মনের কত গভীরে যে এই বাক্যটি বেরিয়ে এলো: যে গরু দুধ দেয়, তার লাথি খেতেও রাজি। এতে কি সংশ্লিষ্টদের শুধু ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হল না?”

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলে দলের অস্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করছেন কুণাল ঘোষ। সেই কারণে যতদ্রুত সম্ভব নেত্রীকে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, “মমতাদির উচিত, পরে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে এই কথাটা প্রত্যাহার করা।” রাগের মাথায় তৃণমূল নেত্রীর সাংবাদিক বৈঠক করা অনুচিত কাজ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। এই বিষয়ে দলীয় বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল নেতাদেরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল বলে জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।