স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ‘এক মন্ত্রী এক দফতর’ চালু করার দাবি জানালেন সাংসদ-সাংবাদিক কুণাল ঘোষ৷

মঙ্গলবার হোক নবজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি৷ সেখানে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, জরুরী দফতরগুলির যে মন্ত্রীদের দায়িত্বে রয়েছে তাঁদের পক্ষে অনেক গুলি দফতর সামলানো সম্ভব নয়৷ তাতে কাজে ব্যাঘাত ঘটে৷ তাই অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই দাবি জানাচ্ছি৷

লোকসভা ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন কাউকে তিনি মন্ত্রিসভায় সামিল করেননি৷বরং বর্তমান মন্ত্রীদের হাতেই একাধিক দফতরের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। খরচ কমানোর উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নবান্নে সংবাদমাধ্যমকে মমতা বলেছিলেন, ‘‘নির্বাচনের পর দু’-একটা রদবদল তো করতেই হয়। নতুন করে কাউকে নিচ্ছি না আমি। কারণ বেশি বাড়িয়ে কী লাভ? যত খরচ কমে, ভাল।’’

মন্ত্রিসভায় সেদিন যে রদবদল ঘটানো হয়, তাতে দায়িত্ব বাড়ে শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর হাতে গিয়েছে সেচ, পরিবহণ এবং জল ভরো-জল ধরো বিভাগ। আগে শুধু পরিবহণ দফতর তাঁর হাতে ছিল। এত দিন তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন ব্রাত্য বসু। অতিরিক্ত বন দফতরের দায়িত্ব হাতে উঠেছে তাঁর হাতে, আগে বিনয় বর্মণের হাতে ছিল এই দফতর। বন দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে।

এদিন কুণাল বলেন, দেখা যাচ্ছে অনেক মন্ত্রীরা একটি দফতরের কর্মীদের সঙ্গে সমসময় ঠিকমতো যোগাযোগ রাখতে পারে না৷ তাহলে একাধিক দফতরের কর্মীদের সঙ্গে কিভাবে রাখবেন?

তবে ভোটের আগে অনেক মন্ত্রীরই দায়িত্ব লাঘব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যেমন, শোভন চট্টাপাধ্যায় ছিলেন দমকল মন্ত্রী৷ তাঁর ইস্তফার পর দমকলের দায়িত্ব যায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে৷ বর্তমানে নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রীত্ব সামলানোর সঙ্গে কলকাতার মেয়রও তিনি৷ ফলে ফিরহাদের অতিরিক্ত কাজের ভার হয়ে যাচ্ছে দেখে সেই ভার লাঘবে দমকল নিয়ে দেওয়া হল বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসুকে৷ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দফতরের ভার পুরোপুরি শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রর কাঁধে ছিল৷

দফতর যাতে আরও ভালো করে এগোয় তার জন্য সেই দফতরে যোগ করা হয়েছে এক প্রতিমন্ত্রীকে৷ চাকদহের বিধায়ক রত্না ঘোষকে দেওয়া হয় দায়িত্ব৷ এছাড়া শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয় নির্মল মাজিকে৷ মলয় ঘোষ এই দফতরের পূর্ণ মন্ত্রী৷ তাঁর এখন সঙ্গে কাজ করছেন নির্মল মাজি৷

হোক নবজাগরণের মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের সবথেকে পুরোনো একটি পুলিশ কর্মচারী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এসোসিয়েশনের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন কুনাল ঘোষ । তিনি বলেন, এদের স্বীকৃতি না দিলে মুখ্যমন্ত্রীর নবান্নে বসে কান্নাকাটি করে কোনও লাভ হবে না। পুলিশ কথা শুনছে না বললে হবে না। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর মত করে পুলিশকে দিয়ে কাজ করাতে চান তাহলে তাঁদের সংগঠনকে স্বীকৃতি দিতে হবে। নাহলে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল এর ফায়দা নেবে।