সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: পার্লামেন্টে বিভিন্ন ধর্মের দেবতার নামে ধ্বনি দিচ্ছেন সাংসদরা। বুদ্ধিজীবীদের চিন্তা, ধর্ম রক্ষা করতেই যেন বেশী উদ্যোগী হয়ে পড়ছেন ভোটে জিতে আসা জনগণের প্রতিনিধিরা। এদিকে দেশের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলেও নেই। রুক্ষ মাটিতে আছাড় খাচ্ছে বলে মত তাদের কারন দেশে জল কমে আসছে। প্রকট হচ্ছে জলের অভাব। এমন পরিস্থিতিতে ধর্মরক্ষার চিন্তাভাবনা সরিয়ে রেখে ওদের বার্তা ‘ধর্ম নয়, জল বাঁচান’।

জল বাঁচানোর তাগিদে অভিনব বার্তা দিতে চাইল কুমোরটুলি সর্বজনীন। খুঁটি পুজোকে সামনে রেখেই ক্লাবের সদস্যরা এই বার্তা দিয়ে নেমে পড়লেন ময়দানে। এক দিকে পুজোর ঢাকে কাঠি, অপরদিকে জল রক্ষার ভাবনা। রবিবার সকালে এক কাজে দুই কাজ সম্পন্ন করলেন তাঁরা।

ক্লাবের সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য বলেন , “আজ থেকেই আমাদের যেমন পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল, তেমন আজকে থেকেই আমরা পুজো পর্যন্ত জল রক্ষার প্রচার চালাবো। আমরা সবাই জানি শুধু আমাদের দেশে নয় সারাবিশ্বে জলের কি সঙ্কটজনক অবস্থা। আমাদের জল বাঁচাতেই হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “শুধু প্রচার করেই থামছি না। আমরা আজকে এই এলাকার কয়েকটা টাইম কলে ট্যাপ লাগাবো যাতে জল যখন আসবে সেটা যেন অপচয় হয়ে বেরিয়ে না যায়। আট নম্বর এবং নয় নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৮০ টা এমন কলে আমরা এই ট্যাপ লাগাবো।”

রূপক হিসাবে খুঁটিপুজোর মঞ্চের একপাশে একটি কল রাখা হয়েছিল, যা থেকে নাগাড়ে জল পড়ছিল। তবে রিসাইকেল হয়ে জল পড়ছিল। পুরো বিষয়টাই জলের অপচয়কে বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা। তিনি বলেন , “কুমোরটুলি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠিত ক্লাব। ওদের পুজো এই বছর ৮৯তম বছরে পড়ল। সেখানেই আমি এসেছি। অন্যন্য বার শুধু রক্তদানের ব্যবস্থা থাকে। এবারও শয়েই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিন্তু এই বছর জল অপচয় রক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা অভিনব।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “জল বাঁচানো এই মুহূর্তে অত্যন্ত মূল্যবান কাজ। আমরা পুরসভার পক্ষ থেকে সমস্ত জায়গায় জল তো পৌঁছে দিয়েছি কিন্তু আমরা দেখেছি জল প্রচুর অপচয় হয়। এমনও দেখেছি যে কলটাই খুলে নিয়ে চলে গিয়েছে। এক স্থানীয় ক্লাবের পক্ষ থেকে জল অপচয় বাঁচানোর যে উদ্যোগ তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হতে পারে ছোট তবু খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”