স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শনিবার মহালয়া। তার পরই পুরোদস্তুর পুজোর আবহ শুরু হয়ে যাবে। এখন মণ্ডপে মণ্ডপে চূড়ান্ত কাজ চলছে। কিন্তু টানা বৃষ্টির জেরে সবই পণ্ড হতে বসেছে। কুমোরটুলির শিল্পীরাও চিন্তিত এমন আবহাওয়া নিয়ে। উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিমার রং শুকোনো নিয়ে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বুধবারও সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর অবিহাওয়া দফতর। অথচ শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সেদিনই অনেক মণ্ডপে ঠাকুর যাওয়ার কথা।

এদিকে দফায় দফায় বৃষ্টিতে একদিকে যেমন মণ্ডপ তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীপাড়ায় কাজের গতি শ্লথ হচ্ছে। বুধবার কুমোরটুলিতে গিয়ে দেখা গেল অনেক শিল্পীর স্টুডিওতে যে প্রতিমাগুলো তৈরি হচ্ছে তাতে রঙের প্রলেপ পর্যন্ত পড়েনি। শিল্পীদের কথায়, “কি আর করবো? অর্ডার যখন নিয়েছি তখন ঠিক সময়ে তো মণ্ডপে ঠাকুর পৌঁছে দিতে হবে। যে ভাবেই হোক সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।” শিল্পী মন্টি পালের স্টুডিওতে যে প্রতিমাগুলো তৈরি হচ্ছে সেগুলো পৌঁছে দিতে হবে মহালয়ার আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার। কিন্তু এখনও সেই প্রতিমাগুলোর রঙের কাজই সম্পন্ন হয়নি।

শিল্পীরা জানাচ্ছেন, “রাত তিনটে-চারটে পর্যন্ত কাজ হচ্ছে। যেভাবেই হোক সম্পূর্ণ করে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে। বাকি কাজ আমরা মণ্ডপে গিয়ে করব।” কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণে বড় ও মাঝারি পুজোগুলির মণ্ডপ তৈরি করতেও বেগ পেতে হচ্ছে পুজো উদ্যোক্তাদের। উত্তর কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো জগৎ মুখার্জী পার্ক। অভিনব ভাবনা ও শিল্প সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেয় তারা। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, প্যান্ডেলের কাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু বাইরে যে প্লাই লাগানো হচ্ছিল, তা রং করার কাজ পুরোপুরি বন্ধ। যেটুকু কাজ, তা হচ্ছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জা। বাইরে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। পুজো কমিটির সম্পাদক দৈপায়ন রায় বলেন, বৃষ্টির জন্য কারিগরদের বাধ্য হয়ে বসিয়ে রাখতে হয়েছে। বাইরের কোনও কাজই তো করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে সময়ে কাজ শেষ করতে অনেক সমস্যা হবে। এর মধ্যেই যেভাবে হোক করতে হবে। কুমোরটুলি পার্কে গিয়ে দেখা গেল, মাঠের নানা জায়গায় জল জমে রয়েছে। থকথকে কাদাও হয়ে রয়েছে। সেখানেও যা কাজ হচ্ছে, তা মণ্ডপের অন্দরসজ্জা। বাইরের কাজ বন্ধ।