শংকর দাস, বালুরঘাট: কুমারগঞ্জ গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনার চার্জশিট সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। আর তা না পারলে, রাজ্যের ডিজি এবং হোম সেক্রেটারিকে দিল্লিতে তলব করবে কমিশন। রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের পঞ্চগ্রামের মৃতার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে একথা জানালেন, ন্যাশনাল কমিশন অফ এসসি’র সদস্য ডঃ যোগেন্দ্র পাসোয়ান।

রবিবার দিল্লি থেকে বাগডোগরা হয়ে পঞ্চগ্রাম পৌঁছান ডঃ যোগেন্দ্র পাসোয়ান। কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার মধ্যে ক্ষেতের আল ভেঙে মৃত কিশোরীর বাড়িতে উপস্থিত হন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ ডঃ সুকান্ত মজুমদার। এদিকে গত শনিবার সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মত এদিনও মৃতার বাড়িতে গিয়ে দরজায় তালা বন্ধ দেখেন পুলিশ এবং কমিশনের সদস্যরা। খোঁজ মেলেনি মৃতার বাবা-মা এবং দাদার। যার ফলে, স্থানীয় প্রতিবেশীদের কাছ থেকেই বাধ্য হয়ে ঘটনার সমস্ত তথ্য জেনে নিতে হয় তাঁদের।

যদিও এই বিষয়ে মৃতের এক কাকিমা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার সকালে মৃতা কিশোরীর বাবা-মাকে থানায় ডেকে পাঠায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। সেদিন দুপুরে বালুরঘাটে প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণ বাবদ চেক প্রদান করা হয় তাঁদের হাতে। এর পর থেকেই তাঁদের আর কোনও খবর কেউ জানে না।

স্বয়ং ডঃ যোগেন্দ্র পাশোয়ান যেখানে উপস্থিত, সেখানে দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্তকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাঁর কাছেও মৃতের মা বাবা ও দাদার কোনও খবর নেই। তাঁরা বর্তমানে কোথায় রয়েছে, বা কোথায় গিয়েছে তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কেউ। ফলে, কমিশন এদিন তাঁদের খুঁজে বের করে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া। এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থার পাশাপাশি একসপ্তাহর মধ্যে চার্জশিট পেশ করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপারকে। সেই সঙ্গে তিনি একথাও স্পষ্ট করে দেন যে, এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের কোনও রুপ গাফিলতি দেখালে ন্যাশনাল কমিশন অফ এসসি রাজ্যের ডিজি হোম সেক্রেটারি ও জেলাশাসক পুলিশ সুপারকে দিল্লিতে তলব করবে। এই বিষয়ে পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্তকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।