বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের জোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অতিথিদের জন্য খরচ করা হয়েছে ৪২ লক্ষ টাকা। আর এই সম্পূর্ণ টাকা খরচ হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে। তথ্য জানার অধিকার আইনে সৌজন্যে সামনে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি একক বৃহত্তম দল হলেও ছুঁতে পারেনি ম্যাজিক ফিগার। যার কারণে অধরা থেকে গিয়েছিল সরকার গঠনের স্বপ্ন। গেরুয়া ঝড় ঠেকাতে ওই রাজ্যে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে কংগ্রেস এবং জেডি(এস)। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন জেডি(এস)-র এইচ ডি কুমারস্বামী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর পদটি পেয়েছেন কংগ্রেসের ডাঃ জি পরমেশ্বর।

এই দুই ব্যক্তির শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল বিজেপি বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের। অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। এই অতিথিদের পিছনেই খরচ করা হয়েছে সাধারণ মানুষের করের টাকা।

খরচ করার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। যিনি বেঙ্গালুরুর তাজ ওয়েস্ট এন্ড হোটেলে ছিলেন ১৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। আর তাতেই বিল হয়েছে আট লক্ষ ৭২ হাজার ৪৮৫ টাকা। আম আদমি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ওই একই সময়ে খরচ করেছেন ৭৬ হাজার ২৫ টাকা। একই হোটেলে ছিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা কামাল হাসান। তাঁর জন্য কর্ণাটকের কোষাগার থেকে খরচ করা হয়েছে এক লক্ষ দুই হাজার ৪০ টাকা।

উত্তর প্রদেশের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সপা এবং বিএসপি-র শীর্ষ নেতানেত্রীদের জন্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়েছে কর্ণাটক সরকারকে। ভাইপো অখিলেশের বিল হয়েছিল এক লক্ষ দুই হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে পিসি মায়াবতী খরচ করেছেন এক লক্ষ ৪১ হাজার ৪৪৩ টাকা। সর্বহারার দল সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরির খরচ লক্ষ পার করেনি। ৬৪ হাজারেই তিনি থেমে গিয়েছেন। কিন্তু কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বাম নেতা পিনারাই বিজয়ন আবার বিল করেছেন এক লক্ষ দুই হাজার ৪০০ টাকা।

কর্ণাটক সরকারের স্টেট হসপিটালিটি অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগত অতিথিদের খরচ বাবদ তাজ ওয়েস্ট এন্ড এবং সাংরি লা হোটেলে ৩৭ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৩৬ টাকার বিল মেটানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিধান সৌধতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন অতিথিদের চায়ের জন্য খরচ করা হয়েছে চার লক্ষ ৩৫ হাজার এক টাকা। মাত্র সাত মিনিটের শপথের জন্য এই বিপুল ব্যয় ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। তাও আবার সাধারণ মানুষের করের টাকায়!

২০১৩ সালে ওই রাজ্যে জিতেছিল কংগ্রেস। ওই বছরের মে মাসের ১৩ তারিখে শপথ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। অনেকেই আমন্ত্রিত ছিলেন। সেই অতিথিদের আপ্যায়নের খরচ সরকারি কোষাগার থেকে বহন করা হয়নি। একই ছবি দেখা গিয়েছিল ২০১৮ সালের বিএস ইয়েদুরাপ্পার শপথের অনুষ্ঠানে। একক বৃহত্তম দল হওয়ায় বিজেপি-কে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কর্ণাটকের রাজ্যপাল। মে মাসের ১৭ তারিখে হয়েছিল সেই শপথ গ্রহণ।