বেঙ্গালুরু: সকাল থেকে নাটকের পর নাটক৷ অবশেষে এই নাটকের যবনিকা পতন বৃহস্পতিবার হতে চলেছে৷ বৃহস্পতিবার আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে চলেছে কর্ণাটকের এইচ ডি কুমারাস্বামী সরকার৷ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপাতত টালমাটাল৷ এরই মধ্যে রাজ্যের জোট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের দাবি জানিয়েছে বিজেপি৷

এদিকে, কোনও কংগ্রেস নেতার সঙ্গে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না বিদ্রোহী ১৪ জন বিধায়ক৷ মুম্বইয়ের একটি হোটেলে আপাতত রয়েছেন তাঁরা৷ কংগ্রেস হাই কম্যাণ্ডের পক্ষ থেকে নাকি তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ এই মর্মে মুম্বই পুলিশের কাছে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন তাঁরা৷ তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক, এমনই দাবি বিদ্রোহী বিধায়কদের৷

তবে বৃহস্পতিবার নয়, সোমবারই অনাস্থা প্রস্তাব এনে ভোটাভুটি চেয়েছে বিজেপি৷ তাদের দাবি কর্ণাটকের জেডিএস-কংগ্রেস জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে৷ তবে বৃহস্পতিবারই আস্থা ভোট হবে বলে শেষ পাওয়া সূত্রে খবর৷ অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারাস্বামীর পদত্যাগও দাবি করেছে বিজেপি বিধায়করা৷

আরও পড়ুন : অকেজো চন্দ্রযান-১ প্রায় এক দশক ধরে ঘুরেছিল চাঁদের চারপাশে

এদিকে সোমবারই মুম্বইতে ইস্তফা দিতে ইচ্ছুক বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এইচ ডি কুমারাস্বামী ও কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে৷ মুম্বইয়ের রেনেসাঁ হোটেলে রয়েছেন ওই বিধায়করা৷ তাঁদের সঙ্গে হোটেলেই দেখা করতে চাইছেন এই দুই নেতা৷

উল্লেখ্য জনতা দল-কংগ্রেসের ১১ বিধায়ক গত শনিবার দুপুরে রাজ্য বিধানসভায় স্পীকার রমেশ কুমারের কাছে উপস্থিত হন ইস্তফা দেওয়ার জন্য৷ এই বিধায়করা হলেন, প্রতাপগৌড়া পাতিল, শিবরাম হেব্বর, রমেশ জারকিহোলি, মহেশ কুমাতি হল্লি, নারায়ণ গৌড়া, রামালিঙ্গা রেড্ডি, সৌম্য রেড্ডি, বাইরাথি সুরেশ এবং মুনিরাথনা এবং জেডি-এস-এর গোপালাইয়াহ্ এবং এইচ বিশ্বনাথ৷

আরও পড়ুন : অবসরের পর হয়ত সিয়াচেনের আর্মি পোস্টে দেখা যাবে ধোনিকে

এরই প্রেক্ষিতে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়ে বিজেপি৷ সিনিয়র বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন কর্ণাটক মুখ্যমন্ত্রী ডিভি সদানন্দ গৌড়া জানান, রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত বিজেপি, এবং বিজেপি সরকার গঠন করলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বিএস ইয়েদুরাপ্পা৷ এদিকে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই গণ ইস্তফা প্রসঙ্গে সদানন্দ গৌড়া জানান, বিধায়করা দল থেকে বেরিয়ে আসার এবং বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার এটাই সঠিক সময় বলে মনে করেছেন এবং তা রাজ্যের পক্ষে ঠিক হবে না বলেও তাঁরা মনে করেছেন৷

প্রাথমিকভাবে যে ১১ জন বিধায়ক ইস্তফা দিতে যান, তার মধ্যে ৮জন কংগ্রেসের ও তিনজন জনতা দল সেকুলারের বিধায়ক বলে খবর৷ যদি এই পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে জোট সরকার৷ ২২৪ আসনের বিধানসভায় ১১৬ আসন রয়েছে জোট সরকারের৷ সরকার ধরে রাখতে গেলে প্রয়োজন ১১৩ জন বিধায়কের৷