নয়াদিল্লি: উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাবাকে খুনের দায়ে বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কুলদীপ সেঙ্গারের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল দিল্লির আদালত। মেয়ের জন্য বিচার চেয়ে প্রশাসনের একাধিক মহলে ঘুরছিলেন ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় তরুণীর বাবাকে। পুলিশ লকআপে বেধড়ক মারধর করা হয় ওই ব্যক্তিকে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির।

১০ বছরের কারাদণ্ড হল বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কুলদীপ সেঙ্গারের। নির্যাতিতার বাবাকে খুনের দায়ে তার এই সাজা। ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে কুলদীপের ভাই অতুল সেঙ্গার ও আরও তিন পুলিশকর্মীর। উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির বাইরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর পরের দিনই মৃত্যু হয় নির্যাতিতা তরুণীর বাবার।

ইতিমধ্যেই ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছে কুলদীপ সেঙ্গার। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল খুনের সাজাও। উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণীর বাবাকে খুনের দায়ে ১০ বছরের সাজা হল কুলদীপ সেঙ্গারের। এরই পাশাপাশি কুলদীপ ও তার ভাইকে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির আদালত।

২০১৯ সালের অগস্ট মাসে উন্নাওয়ের নির্যাতিতা তরুণীর বাবাকে ভয়ো অস্ত্র আইনে ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠে। এমনকী থানায় নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরেরও অভিযোগ ওঠে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের উপর ভিত্তি করেই চার্জ গঠন করা হয়। কুলদীপের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করে ভুয়ো মামলায় নির্যাতিতার বাবাকে ফাঁসানো ও তাঁকে মারধরের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। পুলিশকে দিয়ে নির্যাতিতার বাবাকে ধমকে আসলে নিজের বিরুদ্ধে চলা মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করছিল কুলদীপ ও অন্য দোষীরা।

নির্যাতিতার বাবাকে খুনের সময় কুলদীপ নিজে দিল্লিতে ছিল না। তবে নিয়মিত তার যোগাযোগ ছিল পুলিশকর্মীদের সঙ্গে। উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাবাকে থানায় নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে পুলিশকর্মীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরের দিন ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।