মাইসোর: ক্যারিবিয়ান সফরের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি টি-২০ সিরিজের দলেও জায়গা হয়নি ভারতীয় ‘চায়নাম্যান’ বোলারের৷ তবে বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে কুড়ি-বিশের ফর্ম্যাটে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কুলদীপ যাদব৷

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসছে টি-২০ বিশ্বকাপের আসর৷ তার আগে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চান টিম ইন্ডিয়ার এই বাঁ-হাতি স্পিনার৷ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাটিতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত যুবেন্দ্র চাহাল ও তাঁর জুটি ছিল ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগের মূলস্তম্ভ। বিদেশির মাটিতেও এই স্পিনিং জুটি বিরাটের দলকে অনেক ম্যাচ জিততে সাহায্য করেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের পর ছবিটা কিছুটা হলেও পালটে গিয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি টি-২০ সিরিজে দলে জায়গা হয়নি কুলদীপের। বাঁ-হাতি স্পিনারের বদলে তরুণ লেগ-স্পিনার রাহুল চাহারকে সুযোগ দিয়েছেন নির্বাচকরা৷ ২০২০ বিশ্বকাপের আগে টিম কম্বিনেশন দেখে নিতে চাই টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও দল থেকে বাদ পড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কুলদীপ। এই সময়ে লাল-বলে অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চান ‘চায়নাম্যান’।

শুক্রবার শেষ হওয়া ভারত-এ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা-এ দলের বিরুদ্ধে চারদিনের দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টে পারফর্ম করেছেন কুলদীপ৷ ম্যাচ ড্র হলেও প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংসে চারটি উইকেট তুলে নেন কুলদীপ৷ এদিন ম্যাচের পর কুলদীপ বলেন, ‘সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আমার পারফরম্যান্স খারাপ নয়৷ সাদা বলে নিজের বোলিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। সুতরাং শেষ দুই টি-২০ সিরিজের দলে না-থাকলেও আমি উদ্বিগ্ন নই। হয়তো নির্বাচকরা মনে করেছেন, কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন। আমি সেটাকে সম্মান করি। এই সময় বরং আমি টেস্টে ভালো বল করতে চাই৷’ সুযোগ হিসেবে দেখছি।”

দক্ষিণ আফ্রিকা-এ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টে ২৯ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন কুলদীপ। ১২১ রান খরচ করে নিয়েছেন চার উইকেট। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ধরলে ২২.৯৭ গড়ে ৮১ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। তাঁর ইকনমি রেট ৭.৬০। যা ভারতীয়দের মধ্যে পঞ্চম। রিস্ট স্পিনারদের গুরুত্ব প্রসঙ্গে কুলদীপ বলেন, ‘ক্রিকেটবিশ্বে এই মুহূর্তে রিস্ট স্পিনাররা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু কখনও কখনও রান আটকানো কঠিন হয়ে যায়৷ তাই নিখুঁত নিশানায় বল করতে আরও পরিশ্রম করতে হবে৷’