দ্য হেগ: দীর্ঘ মামলার পর ভারতের নৈতিক জয় কুলভূষণ মামলায়। আন্তর্জাতিক আদালতে প্রায় সার্বিকভাবেই জয় এল ভারতের হাতে। পাকিস্তান যে ভিয়েনা কনভেনশন ভেঙেছে, তাতেই সায় দিল আইসিজে।

বুধবার ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে ৬টায় সেই মামলার দেয় আন্তর্জাতিক আদালত। সেই মামলায় ১৬ জন বিচারপতির মধ্যে ১৫ জনই রায় দেন ভারতের পক্ষে বা পাকিস্তানে বিপক্ষে। শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিচারপতি তাসাদক হুসেন জিলানি রায় দিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে।

পাকিস্তানের কাছে বারবারই কুলভূষণের জন্য কনস্যুলার অ্যকসেস চেয়েছিল ভারত। কিন্তু পাকিস্তান বলেছিল যে, গুপ্তচরদের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া যায় না। কিন্তু এদিন বিচারপতিরা পাকিস্তানের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে এবং পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেশন ভেঙেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিনের রায়ে, কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে।

অর্থাৎ এই মুহূর্তে পাকিস্তান কুলভূষণকে ফাঁসি দিতে পারবে না। আপাতত পাক আদালতের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। ৪২ পাতার অর্ডারে সেই রায়ের উল্লেখ রয়েছে।

পাশাপাশি ভারত যে বারবার কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছিল, তা পাকিস্তানের দেওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। কুলভূষণের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশন ভেঙেছে বলে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭-র এপ্রিলে পাক সামরিক আদালত ৪৭ বছরের কুলভূষণকে ফাঁসির সাজা দেয়। পাকিস্তানের দাবি, ইরান থেকে বালুচিস্তানে ঢুকে পড়েছিলেন কুলভূষণ। তাঁকে ভারতের গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গুপ্তচরদের কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া উচিৎ নয় বলে বারবার দাবি করে ভারত।

২০১৭-র ডিসেম্বরেই কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যায় কুলভূষণের স্ত্রী ও মা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। স্ত্রী’র জুতো খুলে ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হয়। আর পাকিস্তানের এই ব্যবহারে যে নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানায় ভারত।

চরবৃত্তির অভিযোগের জেরে কুলভূষণের তথাকথিত স্বীকারোক্তির ভিডিয়োও আন্তর্জাতি আদালতে পেশ করা হয়। কিন্তু প্রতিটি আবেদনই খারিজ করে বেঞ্চ৷