কাঠমাণ্ডু: তিহার চলছে। দীপাবলি উৎসবে প্রতিবেশী ভারত যখন আলোয় সেজে উঠছে তখন অন্য আলো নেপালে। এমনিতে ভারতের মতোই আলোর মালায় সেজেছে হিমালয় কন্যা। তবে তার অন্য আলো হল কুকুরকে পুজো করা।

অবলা বিশ্বস্ত এই প্রাণীকে দেব রূপে পুজো করে তিহার বা উৎসব পালন করছেন নেপালিরা। কুকুর তিহার নামেই এর পরিচিতি। ৫ দিনের এই তিহারে কাক-গোরু সমানভাবে পূজিত হয়।

কাঠমাণ্ডুর সংবাদ মাধ্যমগুলির খবর, তিহার উপলক্ষে ঘরে ঘরে দীপ জ্বালানো যেমন হবে তেমনই পালিত হয়েছে কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর্ব। ঘরে পোষা বা রাস্তার কুকুর কেউই ছাড় পাবে না টিকার হাত থেকে।

থালায় ভর্তি রকমারি খাবার, ফুলের মালা, আর টিকা নিয়ে কুকুর পাকড়াও করতে নেমে পড়েছেন আম নেপালিরা। যেখানেই কুকুর দেখা যাচ্ছে আর ছাড়ান নেই। সেটাকে ধরে তার গলায় মালা পরিয়ে দিয়ে পুজো করাই প্রথম কর্তব্য।

বছরের এই দিনটা নেপালের রাস্তায়-ঘরে থাকা কুকুররা হল ভিভিআইপি। এমনিতে কুকুর-কে নেপালিরা খুবই শ্রদ্ধা করে থাকে। বিশেষ করে নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনিতে এর কদর বেশি। পাহাড়ি কুকুরের লোমশ রাগী মুখ দেখে অনেকেই ভয় পান।

সেরকমই সাহসী কুকুরকে বিশেষ ট্রেনিং দিয়ে উপযুক্ত করা হয়। তারপর তাকে দিয়েই অনেক অসাধ্য সাধন করা হয়। বিশেষ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ভয়াবহ নেপালের ভূমিকম্পের ঘটনা। সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরে কুকুররে সাহায্যেই ধংস স্তূপের গভীরে আটকে থাকা মানুষকে বাঁচানো হয়।

তবে প্রচলিত ধারণায় কুকুর হল দেবতার প্রতীক। তাকেই পুজো করেন নেপালিরা। কাঠমান্ডু পোস্টের খবর, রাজধানী শহর ছাড়াও দেশের সর্বত্র পালিত হচ্ছে তিহার। আর কুকুর তিহার উপলক্ষে পড়েছে সাজো সাজো রব।

পোখরা, ভরতপুর, বাটাওয়াল, জনকপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় পালিত হয়েছে কুকুর তিহার। কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনি ও পুলিশের তরফে তাদের সঙ্গে থাকা কুকুরদের টিকা দেওয়া হয়েছে।

তিহারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্বটি হল ভাই টিকা। এটি প্রচলিত ভাইফোঁটার সঙ্গে মিল রয়েছে। কিন্তু কুকুর টিকা অভিনব, একমাত্র নেপালেই দেখা যায়।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.