সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে লাল-হলুদ অনুশীলনে ক্রোমা। ফাইল ছবি

কলকাতা: ২০১৮ কলকাতা লিগে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে খেলেছিলেন ১০টি ম্যাচ। এরপর আলেজান্দ্রো জমানা শুরু হতেই ২০১৮-১৯ আই লিগের আগে পদ্মাপাড়ের ক্লাবে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে ইস্টবেঙ্গলে আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ জমানা শেষ হতেই ফের ডাক পড়ল আনসুমানা ক্রোমার। ২০১৯-২০ আই লিগের বাকি ম্যাচগুলির জন্য ইস্টবেঙ্গলে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে চলেছেন লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার।

চলতি মরশুমে দলের একাধিক ফুটবলার রিক্রুট নিয়ে দলের মধ্যে মতানৈক্য তুঙ্গে। তার উপর খুদে পুত্র সন্তানের অসুস্থতার জন্য দেশে ফিরে রিলিজ নিয়েছেন গত মরশুমে ডিফেন্সের স্তম্ভ বোরহা গোমেজ পেরেজ। তাই প্রাথমিকভাবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের বদলি হিসেবে অন্য কোনও ডিফেন্ডার আসার কথা ছিল লাল-হলুদে। কিন্তু আপফ্রন্টের দশাও তথৈবচ। মার্কোস জিমেনেস এসপাদা মার্টিনের উপর ভরসা হারাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট। তাই মরশুমের বাকি ম্যাচগুলির জন্য ফের লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার আনসুমানা ক্রোমার শরনাপন্ন হল ইস্টবেঙ্গল।

চলতি মরশুমে পিয়ারলেসকে কলকাতা ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন করার পর আই লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাবের লোভনীয় প্রস্তাব ছিল লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকারের কাছে। কিন্তু সব ছেড়ে ক্রোমা চলে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার একটি ক্লাবে খেলতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চুক্তির সময় কাগজপত্র নিয়ে কিছু সমস্যার কারণে মালয়েশিয়ান লিগে তাঁর খেলা সম্ভব হয়নি। দেশে ফিরে এসে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে আই লিগের কোনও ক্লাবে খেলার চেষ্টা চালালেও আর ডাক পড়েনি কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার।

কিন্তু বোরহা রিলিজ চেয়ে নেওয়ায় পরিবর্ত হিসেবে ফের পুরনো ক্লাবের অফার চলে এল ক্রোমার কাছে। আর মরশুমের মাঝপথে এমন প্রস্তাব পেয়ে তা আর হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। হাতের তালুর মত চেনা ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও পুরনো বেশ কিছু সতীর্থদের সঙ্গে ফের খেলার সুযোগ পেয়ে আর পিছনে ফিরে তাকাননি বাংলার জামাই। বুধবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে এসেই চুক্তির বিষয়ে সিলমোহর দিয়ে যান বছর সাতাশের স্ট্রাইকার।

কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকেও মরশুমের বাকি ম্যাচগুলির জন্য ক্রোমার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জানানো হয়েছে। ৩১ মে, ২০২০ অবধি কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই লাইবেরিয়ান। এখন দেখার দ্বিতীয় ইনিংসে লাল-হলুদকে কতটা ভরসা জোগাতে পারেন ক্রোমা।