কলকাতা: ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে মহামেডানকে হারিয়ে মোহনবাগানে সূচনা হয়েছিল স্প্যানিশ যুগের। দিনতিনেক যেতে না যেতেই বাগানে চূর্ণ স্প্যানিশ কানেকশন। গতবারের রানার্স পিয়ারলেসের কাছে ০-৩ গোলে হেরে কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে ভূপতিত কিবু ভিকুনার মোহনবাগান। সোমবার ঘরের মাঠে গতবারের চ্যাম্পিয়ন সবুজ-মেরুনকে মাটি ধরালেন ক্লাবেরই প্রাক্তনী আনসুমানা ক্রোমা। জোড়া গোল সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টে পিয়ারলেসের ম্যাচ জয়ের নায়ক এই লাইবেরিয়ান।

বার্সেলোনা ‘বি’ দলের প্রাক্তন স্ট্রাইকার সালভা চামোরোর জোড়া গোল, মাঝমাঠে জোসেবা বেইতিয়ার দৃষ্টিনন্দন ফুটবলে ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে যুবভারতীতে ফুল ফুটিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে বাগানের খেলায় উধাও সবকিছু। খাঁ-খাঁ মাঝমাঠের সঙ্গে আপফ্রন্টের কোনও যোগাযোগ পরিলক্ষিত হল না এদিন বাগানের খেলায়। দ্বিতীয়ার্ধে পোস্টে লেগে প্রতিহত হল চামোরোর হেড। অতিরিক্ত সময় পেনাল্টিও নষ্ট করলেন প্রথম ম্যাচে জোড়া গোলের নায়ক। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলে চূড়ান্ত রোনাল্ডো, শতবর্ষে ১০০ শহরে উড়ল লাল-হলুদ পতাকা

প্রথমার্ধে বাগানের প্রাক্তনী লাইবেরিয়ান ক্রোমার গোলে এগিয়ে যায় জহর দাসের পিয়ারলেস। ম্যাচের ২০ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে আগুয়ান গোলরক্ষক শিলটনকে অবলীলায় পরাস্ত করেন ক্রোমা। এরপর ঠান্ডা মাথায় স্কোরলাইন ১-০ করেন লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকার। ক্রোমা, পঙ্কজ মৌলা, অ্যান্থনি উলফের মত তারকাদের নিয়ে গড়া পিয়ারলেস এবার লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদার। সেই দলের বিরুদ্ধে ডেডলক খুলতে এদিন নাকানি-চোবানি খেল সবুজ-মেরুন আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পিয়ারলেস।

আরও পড়ুন: লিভারপুলকে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড জয় ম্যান সিটির

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে ধনচন্দ্রের সেন্টার থেকে চামোরোর হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত না হলে অবশ্য ম্যাচে সমতায় ফিরতে পারত বাগান। যদিও ছোট দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ হারার কারণ হিসেবে এই ঘটনাকে খাড়া করা বাগানের পক্ষে অজুহাতেরই সামিল। সবুজ-মেরুন কোচের হতাশা বাড়িয়ে ক্রোমার পাস থেকে ৭৬ মিনিটে পিয়ারলেসের হয়ে ব্যবধান বাড়ান লক্ষ্মীকান্ত মান্ডি। এর আগে ৬৫ মিনিটে অ্যান্থনি উলফের প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

তিন মিনিট বাদে বাগানের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন ক্রোমা। গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে এক্ষেত্রে চরম ভুল করে বসেন অভিজ্ঞ শিলটন। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জয়ের সুযোগ না থাকলেও অতিরিক্ত সময় ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু পেনাল্টি থেকে দুর্বল শট নিয়ে সেই সুযোগও হাতছাড়া করেন মহামেডান ম্যাচের নায়ক।