কলকাতা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি ইস্যু নিয়ে এবার সরব হলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য কৃষ্ণা বসু। কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের জেরে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষ্ণা বসু।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে এবার কেন্দ্রকে নিশানা করলেন কৃষ্ণা বসু। বেছে বেছে মুসলিমদেরই টার্গেট করছে কেন্দ্র, এমনই অভিযোগ প্রাক্তন সাংসদের। কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে কৃষ্ণা বসু আরও বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশে। কেন্দ্র বিভাজনের নীতি তৈরি করছে। মুসলিমদেরই যে টার্গেট করা হচ্ছে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। কেন্দ্রের মন্ত্রীদের একের পর এক বিবৃতিতেই তা স্পষ্ট হয়েছে।’

নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বৌদ্ধ, জৈন এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও সন্তর্পণে একটি সম্প্রদায়ের নাম এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি কৃষ্ণা বসুর। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন করে মুসলিমদেরই নিশানা করা হচ্ছে বলে পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি প্রাক্তন সাংসদের। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের জেরে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও মনে করেন কৃষ্ণা বসু। তবে এই পরিস্থিতি কখনই কাম্য নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সিএএ ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনা করে কৃষ্ণা বসু আরও জানান, হিন্দু রাষ্ট্র গড়ে তোলাই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের আদর্শ। বিজেপিও আরএসএস-এর এই ভাবধারাতেই বিশ্বাসী। বিজেপি ভাবলেশহীনভাবেই তাদের আদর্শের কথাই প্রচার করছে বলে মনে করছেন প্রাক্তন এই তৃণমূল সাংসদ। মোদী সরকারকে নিশানা করে কৃষ্ণা বসু আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র সংখ্যার জোর আছে বলেই আইন তৈরি করে তা মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার আন্দোলনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কৃষ্ণা বসু। একইসঙ্গে সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলনেত্রীর কেন্দ্র-বিরোধিতার পথকেও সদর্থক বলে বর্ণনা করেছেন প্রাক্তন সাংসদ।

এরই পাশাপাশি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলারও তীব্র নিন্দা করেছেন কৃষ্ণা বসু। এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণা বসু বলেন, ‘কঠিন সময়ে একজোট হয়েছে দেশের ছাত্র সমাজ’।