ফাইল ছবি।

কলকাতা: ফের ধাক্কা বঙ্গ-বিজেপিতে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। আর তার সাগে সংগঠনকে মজবুত করতে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল। একের পর এক জেলায় বিজেপিতে ভাঙন ধরাচ্ছে তৃণমূল। আর তা জারি রেখেই ফের বঙ্গ-বিজেপিতে ভাঙন ধর‍াল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপি নেতা কৃশানু মিত্র। সোমবার তৃণমূল ভবনে কৃশানু মিত্রের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিজেপি নেতার হাতে পতাকা তুলে দেন৷ জানা গিয়েছে, কৃশানু মিত্র নিজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লিখিতভাবে তৃণমূলে যোগদানের আবেদন করেন৷ সবদিক দেখেই কৃশানুর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেই মতো আজ সোমবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন কৃশানু মিত্র। কৃশানু মিত্র এক সময় আরএসএস এর প্রচারক ছিলেন৷

বিজেপি রাজ্য কমিটি সদস্য এবং অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন৷ ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কামারহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন৷ যদিও হেরে যান। এরপর থেকেই কার্যত বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে কৃশানুর। শুধু তাই নয়, একাধিক বিষয় নিয়েও মনোমালিন্য তৈরি হয় বিজেপির সঙ্গে। ফলে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

শেষমেশ বিজেপির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন কৃশানু। তৃণমূলে যোগ দিয়েই কৃশানু বলেন, বাংলায় যদি বাংলার জন্য কাজ করতে হয়, তাহলে বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই কাজ করতে হবে৷ এর কোনও বিকল্প দেখছি না৷ বিজেপিতে যখন ছিলাম তখন অনুভব করেছি যে, বিজেপিতে বাংলা নিয়ে চিন্তা করা বা বাংলার মত করে চিন্তা করার লোক নেই৷

তাই বাংলার জন্য কাজ করার জন্যই তৃণমূলে যোগ দেওয়া। এমনটাই দাবি কৃশানুর। উলেখ্য, আগেই দলের সব পদ ছেড়েছিলেন কৃশানু মিত্র৷ দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে ই–মেল করে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কৃশানুবাবু৷

গত কয়েকদিন ধরে বিজেপির একের পর এক উইকেট ফেলছে তৃণমূল। দক্ষিণ দিনাজপুরের বিজেপি নেতা বিপ্লব মিত্র ও তার ভাই প্রশান্ত মিত্র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ বিপ্লব মিত্রের পর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ হয়েছেন হুমায়ুন কবীরও ৷ ২০১৮ সালে দিল্লিতে ঘটা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু এরপর মোহভঙ্গ।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই তৃণমূলের ভার্চুয়াল শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘ভুল করে যদি কেউ বিজেপিতে গিয়ে থাকেন, তাহলে তৃণমূলে ফিরে আসুন। কেউ যদি কংগ্রেস বা সিপিএমে গিয়ে থাকেন, তাঁরাও ফিরে আসুন। মানুষের জন্যে যদি কাজ করতে চান, তাহলে তৃণমূলেই একমাত্র সেই সুযোগ পাবেন।’

তৃণমূল নেত্রীর সেই ডাকে বাস্তবেই ব্যাপক সাড়া মিলছে। দেখা যাচ্ছে, একুশে জুলাইয়ের পর থেকেই তৃণমূলে যোগদানের প্রবণতা উত্তোরত্তর বাড়ছে। যে জঙ্গলমহল গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেই জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিগত কয়েক মাসে গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ।

পুরুলিয়ার ঝালদা, বাগমুণ্ডি, রঘুনাথপুরের মতো এলাকা থেকে দলেদলে বিজেপি নেতাকর্মীরা যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে। উত্তরবঙ্গেও বিজেপির শক্ত মাটিতে থাবা বসিয়েছে তৃণমূল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I