কাঠমাণ্ডু: নয়া সংবিধান মোতাবেক হয়েছিল ঐতিহাসিক নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে জয়ী হয় কমিউনিস্ট-মাওবাদী জোট৷ বৃহস্পতিবার সেই জোটের তরফে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন কে পি শর্মা ওলি৷ নতুন প্রধানমন্ত্রী চিনের ঘণিষ্ঠ৷ মনে করা হচ্ছে, ওলির শাসনে নেপাল-চিন সম্পর্ক নিয়ে চিন্তায় থাকবে ভারত৷ কেপি ওলি যখন পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখনই কাঠমাণ্ডু-বেজিং সম্পর্ক বেশ গাঢ় হয়৷

নেপালি সংবাদ মাধ্যমের খবর, কাঠমাণ্ডুর প্রেসিডেন্ট হাউস ‘শীতল নিবাস’-এ কেপি শর্মা ওলিকে শপথবাক্য নিয়েছেন৷ উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি সহ বিশিষ্টরা৷

নতুন করে সংবিধান রচিত হওয়ার পর গতবছর ঐতিহাসিক নির্বাচন হয় নেপালে৷ তাতে বিপুল জয় পায় সিপিএন(ইউএমএল) ও নেপালি মাওবাদীদের জোট৷ পরে জোটের তরফে কেপি শর্মা ওলিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা নেপালের মাওবাদী সংগঠন সিপিএন(এমসি) প্রধান নেতা প্রচণ্ড৷

রাজতন্ত্র থেকে গণপরিষদ হয়ে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে গিয়ে বহু রক্তক্ষরণ হয়েছে নেপালে৷ গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়টি ছিল গণপরিষদের নির্বাচনে একের পর এক সরকারের আসা-যাওয়ার সালতামামি৷ সেই নিরিখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মুখটি ছিল অস্থিতিশীল৷ একেকজন চার-পাঁচবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন৷ এই তালিকায় সর্বাধিক এসেছেন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সূর্যবাহাদুর থাপা৷ তারপরেই আসবে নেপালি কংগ্রেসের গিরিজাপ্রসাদ কৈরালার নাম৷ এরপরেই কুর্সিতে বসার নিরিখে থাকবে মাওবাদী প্রচণ্ড সহ বাকিরা৷

প্রশ্ন উঠছে নতুন সরকার অর্থাৎ নেপালি কমিউনিস্ট ও মাওবাদীদের এই জোট কি দীর্ঘস্থায়ী হবে? যদিও দুটি দলই সমঝোতা করে পূর্ণাঙ্গ সময়ের জন্য সরকার চালাতে মরিয়া৷ আগেও তারা জোট করেছিল পরে আরও প্রশ্ন উঠছে, নেপালের নতুন এই বামপন্থী জোট সরকারের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে ভারতের উপরে৷ কারণ কে পি শর্মা ওলির যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ভারত-নেপাল সম্পর্ক বেশ গরম হয়েছিল৷ চিন সেই সুযোগে নেপালের উপর প্রভাব বাড়িয়ে নেয়৷

মাওবাদী গেরিলাদের সঙ্গে সরকার ও রাজপরিবারের দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের পর নেপালে রাজতন্ত্রের পতন হয়েছিল৷ ক্ষমতায় এসেছিল মাওবাদীরা৷ পরে একাধিকবার সরকারের ভাঙা গড়ার সাক্ষী হয়েছে দেশটি৷ গত বছরের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেপালের শাসন ব্যবস্থা রাজতন্ত্র থেকে ফেডারেল গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হয়। তৈরি হয় নতুন সংবিধান৷ গৃহযুদ্ধ পরবর্তী নতুন সংবিধানের আওতায় দেশটিতে গয় প্রথম ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিপুল জয় পায় কমিউনিস্ট-মাওবাদী জোট৷