স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ধৃত মানবপাচার পাণ্ডাকে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্তারা৷ জানার চেষ্টা করছে শহরের কতজন শিশুকে পাচার করেছে ময়ূর ব্যাস ও তার সঙ্গিরা৷ শুধু তাই নয় এই চক্রের জাল আর যে যে রাজ্যগুলিতে ছড়িয়ে সেই রাজ্যের পুলিশদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছেন তদন্তকারীরা৷

এই রাজ্যে মানব পাচারে কারা সাহায্য করেছিলও সেই বিষয়েও জেরা করা হচ্ছে অভিযুক্তদের৷ ভিন রাজ্যে বসে ময়ূর ও তার সঙ্গিরা পশ্চিমবঙ্গে তাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে তথ্য ছিল কলকাতা পুলিশের কাছে৷ অনেকদিন ধরেই ময়ূরের খোঁজে ছিল লালবাজার৷ শহর থেকে শিশুদের কোন দেশে পাচার করা হয়েছে সেই তথ্য পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা৷ অভিযুক্ত ময়ূরকে শনিবার গুজরাট থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷

গ্রেফতার করার পর ময়ূরকে রবিবার ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসে গোয়েন্দারা৷ তাকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে আদালত ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়৷ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লালবাজার কর্তারা দফায় দফায় ময়ূরকে জেরা শুরু করেছে৷ তদন্তকারীরা জানতে পারেন ময়ূর এবং তাদের এই চক্র দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কিশোর কিশোরীদের ভুয়ো পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে বিদেশে পাচার করার কাজ করে৷ এই শহর এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকেও কিশোর কিশোরীদের পাচার করা হয়েছে বলে জানতে পারেন তদন্তকারীরা৷

কিশোর কিশোরীদের পাচার করার জন্য ভুয়ো পাসপোর্ট কলকাতায় তৈরি করা হত৷ এই অভিযুক্তকে জেরা করা শহরে এই ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির চক্রেরও খোঁজ শুরু করেছেন লালবাজার কর্তারা৷ মানবপাচার চক্রের খোঁজে নেমে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে৷ তাদের জেরা করেই ময়ূরের খুঁজে পান গোয়েন্দারা৷ ধৃতকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওঠে আসবে বলে আশাবাদী গোয়েন্দারা৷

1 COMMENT

  1. “কিশোর কিশোরীদের পাচার করার জন্য ভুয়ো পাসপোর্ট (ভুয়ো নথি তৈরীর স্বর্গরাজ্য) কলকাতায় তৈরি করা হত”। যতরাজ্যের ভুয়ো কাগজ-নথিপত্র তৈরীর ব্যবসায়ে একমাত্র বিহারই পারে বাঙলার সঙ্গে পাল্লা দিতে!

    এই চক্রটি সরকারের একেবারে ওপরমহলের প্রশ্রয় ছাড়া এই বিশাল ব্যবসা ফেঁদে বসতে পারতনা। আর, পাসপোর্ট পেতে “আসল” লোকেরই জীবন পার হয়ে যায়, নকল পাসপোর্ট কি পাসপোর্ট অফিসের একেবারে খোদ কর্তার সমর্থন ছাড়া সম্ভব?

    কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ত্তাধীন কলকাতার পাসপোর্ট অফিস তো এখন সিবিআই-এর ধরাছোঁয়ার বাইরে, সুতরাং তদন্ত যে কি হবে তা কল্পনা করা যায়।

Comments are closed.