স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : গত নভেম্বার মাসে গার্ডেনরিচের দুমায়ুন রীচে এক অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে পুলিশ৷ তিনি বেশ কিছু দিন ধরে সেই এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেরাচ্ছিলেন বলে পুলিশ কর্তারা খবর পান৷ খবর পেয়ে এই এলাকায় গিয়ে পৌঁছন ওয়েস্ট পোর্ট থানার পুলিশ৷ প্রৌঢ়কে দেখে ওয়েস্ট পোর্ট থানার পুলিশ বুঝতে পারে দির্ঘদিন ধরে অভুক্ত ছিলেন এই প্রৌঢ়৷

তবে তিনি কে? তার পরিচয় কি? তা জানতে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে হোঁচোট খেতে হয় কলকাতা পুলিশকে৷ কারন এএ প্রৌঢ় বাংলা বলতে বা বুঝতে পারেন না৷ হিন্দি বা ইংরেজিও জানা নেই তাঁর। তিনি পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে অঙ্গভঙ্গিতে উত্তর দিচ্ছিলেন প্রোঢ়৷ বোঝা যায় ওই প্রোঢ় দক্ষিণ ভারতীয়৷

আরও পড়ুন: বন্ধ হতে পারে পছন্দের সিরিয়াল? ট্রাইয়ের নিয়মে চিন্তায় আমজনতা

তাকে সুস্থ করে তুলতে পুলিশ কর্তারা হোপ ফাউন্ডেশনে ভর্তি করান৷ পাশাপাশি তার পরিচয় জানতে তদন্তকারীরা দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় পারদর্শী ব্যাক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ খোঁজ পেতেই সেই ব্যাক্তিদের সঙ্গে প্রৌঢ়কে কথা বলানো হয়৷ এই ভাবেই পুলিশ কর্তারা জানতে পারেন এই ব্যাক্তি দক্ষিন ভারতের বাসিন্দা৷ তার বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে৷ তার নাম বনি শঙ্করা৷

বনি শঙ্করা তার পরিবারের এক সদস্যর ফোন নম্বর দেন পুলিশকে৷ সেই নম্বরে যোগাযোগ করে পুলিশ কর্তারা জানতে পারেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে ছেলে ও পরিবারের সঙ্গে অশান্তি করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে সে৷ তার পর থেকেই তাঁর আর খোঁজ ছিল না৷ তবে প্রৌঢ়কে খুঁজতে সবরকম চেষ্টা করেন তার পরিবারের সদস্যরা৷ এমনকি এই ঘটনার কথা তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানাতেও জানিয়েছিলেন৷ তবে কোনও ভাবেই তাঁর খোঁজ না মেলায় রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ছিলেন শঙ্করা পরিবারের সবাই৷

আরও পড়ুন: সরকারি স্কুলই বিয়েবাড়ি! দোষ ঢাকতে আজব সাফাই কর্তৃপক্ষের

অন্যদিকে বনি শঙ্করা জানান, তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে করে এক শহর থেকে আরেক শহর চলে যান৷ শেষমেষ এই শহরে এসে পৌঁছন৷ টাকা পয়সাও তেমন ছিল না তার কাছে৷ অন্য কোনও ভাষাও না জানায় সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে৷ রীতিমতো অসুস্থ এবং উদভ্রান্ত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুবে বেরিয়েছেন৷

এই ঘটনা জানার পর কলকাতা পুলিশ স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে৷ তার পরেই এই প্রৌঢ়র পরিবারের সদস্যদের শহরে এনে বনি শঙ্করা কে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় লালবাজারের তরফে৷ শেষমেষ কলকাতা পুলিশের সৌজন্য বাড়ি ফিরল দক্ষিন ভারতের বাসিন্দা বনি শঙ্করা৷