নয়াদিল্লি : মর্মান্তিক দু্র্ঘটনার সাক্ষী হয়ে থেকেছে শুক্রবার সন্ধে। গোটা দেশ শিউরে উঠেছে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে। দুই পাইলট সহ মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৭ জনের। কিন্তু কেন এই মৃত্য মিছিল। কেন হল এই দুর্ঘটনা। এবার সেই কারণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি কারণ উঠে এসেছে এই দুর্ঘটনার পিছনে।

প্রথমত, যে কোনও বিমান উড়ানের আগে প্রতি বছর দুবার করে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হয় পাইলটদের। এতে বিমান উড়ানের জন্য কতটা তাঁরা সক্ষম ও দক্ষ, তার পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাস আবহে সেই পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে সব ধরণের পরীক্ষা। ফলে ওই দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানের পাইলটরা কতটা ফিট ছিলেন তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকছে।

দ্বিতীয়ত, পাইলটদের মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি থাকতে পারে। উঠে আসছে এই সম্ভাব্য কারণও। সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সংস্থার পাইলটদের ৬০ শতাংশ বেতন হ্রাসের ঘোষণা করেছিল। পয়লা এপ্রিল থেকেই এই নিয়ম বলবৎ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করা হয়। ফলে মানসিক চাপে থাকতে পারেন পাইলটরা।

তৃতীয়ত, কারিপুর এয়ারপোর্ট, যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি পরিচিত টেবিল টপ রানওয়ে নামে। এখানে রানওয়ের মাঝে আলো থাকে, যাকে বলা হয় সেন্টার লাইট। এর ফলে রানওয়ের অবতরণের অংশটি সম্পূর্ণভাবে দেখতে পান পাইলটরা। কিন্তু দুর্ঘটনার দিন সেরকম কোনও আলো সেখানে ছিল না। এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ব্ল্যাক হোল অ্যাপ্রোচ। এই অবস্থায় রানওয়েতে অবতরণ অত্যন্ত বিপদজনক। এই ধরণের রানওয়েতে বড় বিমান অবতরণ করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর ওপর কেরল জুড়ে খারাপ আবহাওয়াও দুর্ঘটনার পিছনে কাজ করেছে। টানা বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলেন পাইলটরা বলে মনে করা হচ্ছে।

কেরলের এই কোঝিকোড় বিমানবন্দর ভারতের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিমাবন্দরগুলির মধ্যে একটি। আর সেখানেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানে ছিলেন ১৯০ জন যাত্রী। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ৩৫ ফুট উঁচু থেকে পড়ে যায় বিমানটি। আর তার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ভারতের বন্দে ভারত মিশনের অধীনেই এই বিমান দুবাই থেকে আসছিল। সেখান থেকে আটকে থাকা যাত্রীদের নিয়ে আসা হচ্ছিল। কোঝিকোড়ের কারিপুর এয়ারপোর্টের রানওয়ে পেরিয়ে পড়ে যায় বিমানটি।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও