সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আবহাওয়ার অহরহ পরিবর্তন। একদিন স্বাভাবিকের নীচে, পরের দিনেই পাখা চালানোর পরিস্থিতি , কুয়াশা ভর্তি আকাশ। পরের দিনেই আবার ঠাণ্ডার আভাস। সব মিলিয়ে কলকাতার শীত যেন এই মরসুমে একটু বেশিই ভবঘুরেসম আচরন করছে। শুরুটা হয়েছিল।

২০২০, অক্টোবরের শেষ নভেম্বরের শুরুতেই। দুর্গা ঠাকুর শ্বশুর বাড়ি ফিরে যেতেই বাতাসে ঠাণ্ডার আভাস। কলকাতার বাঙালি পাখা বন্ধ করে দিয়ে লেপ কম্বল বের করার চিন্তা ভাবনা করছে। ঠিক এমন সময়েই আমূল পরিবর্তন হয় আবহাওয়ায়। বেমালুম কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গ থেকে শীতের রেশ হারিয়ে যায়। আচমকা পারদ পতন পুরোপুরি বন্ধ হয়। এরপর টানা একমাস এমন চলার পরে ডিসেম্বর থেকে থিতু হতে শুরু করে শীত। কিন্তু মাঝেই মাঝেই ব্রেক কষছিল ঠাণ্ডা। প্রতিবারই তা চরমে পৌঁছেছে। সর্বনিম্ন , সর্বোচ্চ উভয়ের ক্ষেত্রেই তা হয়েছে। এবার গত দিন দিনে যা হল তা আরও অস্বস্তিকর। সময়কাল মঙ্গল থেকে বৃহস্পতি। মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এবার বুধবার তা লাফিয়ে ৬ ডিগ্রি বেড়ে যায়। এমনটাই দেখা যায় হাওয়া অফিসের রেকর্ডে। বুধবার যে পারদ ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে তা আগেই জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। কিন্তু তা এতটা যে বৃদ্ধি পাবে তা বোঝা যায়নি কিন্তু সেটাই হয়। মঙ্গল ‘যাত্রায়’ যা ছিল ১৩ বুধে পা দিয়েই তা পৌঁছে যায় ১৯ ডিগ্রিতে। আজ বৃহস্পতিবার তা কমে চলে এসেছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাওয়া অফিসের তথ্য মাফিক এদিন শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এক লাফে ছয় ডিগ্রি বেড়ে পরের দিনেই চার ডিগ্রি কমে গিয়ে স্বাভাবিক। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ বুধবার ছিল ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। আর্দ্রতার পরিমান যদিও এখনও বেশি রয়েছে। সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৭ শতাংশ। দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বুধবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মঙ্গলবার ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। আর্দ্রতার পরিমান ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৫৮ শতাংশ। দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ তো অঙ্কের হিসেব কিন্তু হাওয়া যে বেশ গোলমেলে তা স্পষ্ট। কারণ পূর্বাভাস বলছে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার পারদ আরও নেমে ১৪ ডিগ্রি হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীরের উপর, ঠাণ্ডা গরমে যা হওয়ার তাই হচ্ছে কিন্তু তলে তলে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় অন্য ভয়ও দেখিয়ে দিচ্ছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.