দেবযানী সরকার, কলকাতা: চাঁদি ফাটা গরম৷ তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ৷ মন-প্রাণে উঁকি দিচ্ছে সাত রঙের ঠান্ডা সরবত৷ সন্ধান মিললেই এক চুমুকেই বাজি মাত৷ উষ্ণতার মাঝেও যেন হিমেল ছোঁয়া৷ ঝিমিয়ে পড়া শরীর তখন তরতাজা৷

শিব আশ্রম৷ উত্তর কলকাতার বিধান সরণী ধরে হাঁটার সময় বিবেকানন্দর বাড়ির একটু আগেই ডান দিকে চোখে পড়বে খাসা সরবত, লস্যি, ঠান্ডাইয়ের এই খাস দোকান৷ কেসর ঠান্ডাই, কেসর-বাদাম, মিল্ক রাইপ ম্যাঙ্গো, মিল্ক গ্রিন ম্যাঙ্গো, রোজ লস্যি, গ্রিন ম্যাঙ্গো লস্যি, রাইপ ম্যাঙ্গো লস্যি সহ প্রায় ৫০-৬০ রকমের সরবত, লস্যি পাওয়া যায় এখানে৷ ১৯৭৮ সালে চান্দুনাথ গুপ্তা এই দোকানটি তৈরি করেন৷ এখন তাঁর দুই ছেলেই দোকান চালান৷

বড় ছেলে প্রমোদ গুপ্তার কথায় , ‘পাশের লাহাবাড়িতে শ্যুটিং হওয়ায় আমাদের দোকানে মাঝে-মধ্যেই লস্যির অর্ডার দেন নায়ক-নায়িকারা৷ তিনি জানান, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পছন্দ ফ্লেভারড লস্যি স্ট্রবেরি, রোজ৷ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত পছন্দ গ্রিন ম্যাঙ্গো, রোজ লস্যি৷ জিতের পছন্দ কেশর ঠান্ডাই, কেশর বাদাম৷

এতো গেল টলিউড৷ সরু এক ফালি দোকানের সরবতে বলিউডেরও অনেক নক্ষত্ররা চুমুক দিয়েছেন৷ সঞ্জয় দত্ত, কঙ্গনা রানাওয়াত এখানে লস্যি খেয়ে গিয়েছেন৷

মাসখানেক আগেই কঙ্গনা এসেছিলেন এখানে৷ প্রমোদ জানালেন, ‘বুলেট রাজা ’-র শ্যুটিং-এর সময় সইফ আলি খান তাঁর জন্য প্লেন, সাদা লস্যির অর্ডার পাঠাতেন৷ সোনাক্ষী সিনহাও প্লেন লস্যি খেতেন৷

সকাল ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত চলে এখানে সরবত বিক্রি৷ দোকান মালিক জানিয়েছেন, তাদের দোকানের সমস্ত সিরাপ হাতে তৈরি৷ বাড়িতেই বানানো হয়৷ মিল্ক শেক, ফ্লেভার লস্যি, ওয়াটার সিরাপ-এর নানা আইটেম ক্রেতাদের পছন্দ৷ তাদের মধ্যে যেহেতু অধিকাংশই কলেজ পড়ুয়া তাই দামও সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে৷ ২০-৪৫ টাকার মধ্যে সরবত, লস্যি ও ঠান্ডাই মেলে৷

বলা যেতে পারে কলেজ স্ট্রিটের প্যারামাউন্টকে যদি শহরের এক নম্বর সরবতের ঠিকান হিসেবে ধরা হয় তাহলে শিব আশ্রমের জায়গা অবশ্যই দু’নম্বরে৷ স্কটিশ চার্চের এক পড়ুয়ার মন্তব্য, ‘‘পুরনো কলকাতা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলিতেই তো বেঁচে রয়েছে!’’

আর অতীষ্ট গরমে এখানে এক গ্লাস সরবত খাওয়ার পর গুন গুন করে যে কেউ গাইতে পারেন‘এক চুমুকের একটু চাওয়া, আর একটু বেশি হলে ক্ষতি কী!’