স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে কলকাতাবাসীর জন্য সুখবর। মাঝেরহাট ব্রিজ চালু করতে চলেছে প্রশাসন। ৬৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের নয়া ব্রিজটি ১৮ মিটার চওড়া এবং চার লেনের হওয়ায় আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গাড়ি চলাচল করবে বলে আশা করছে পূর্ত দফতর।

২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মাঝেরহাট সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। দ্বিতীয়বার কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা যাতে না থাকে তাই পুরোপুরি ভেঙে ফেলে আবার নতুন করে সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাবা হয়েছিল দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ধাঁচে ৮০০ মিটার লম্বা সেতু বানানো হবে। যা তৈরি করতে খরচ হবে ২০০ কোটি টাকা। একাধিকবার সেতু চালু হওয়ার চূড়ান্ত ডেডলাইন বাতিল করে রাজ্য।

তবে তার জন্য রেলের উপরেই দায় চাপানো হয়। রেলের থেকে অনুমতি না মেলার ফলে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে বলেই দাবি করে রাজ্য সরকার। যদিও সেই দাবি আগেই খারিজ করে দিয়েছে রেল।প্রায় ছ’দফায় চিঠি চালাচালির পর রাজ্য-রেলের সংঘাত দূর হয়। কাটে জট। ই-মেলের মাধ্যমে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মাঝেরহাটের নতুন সেতু তৈরিতে আর কোনও বাধা নেই।

এরপর লকডাউনের মধ্যেই ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ শুরু হয়। ভারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, নির্মীয়মাণ মাঝেরহাট ব্রিজের মূল অংশের ২২৭ মিটারের সামান্য কিছুটা কাজ এখন আর বাকি। আগামী সপ্তাহে শুরু হবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ধাঁচে কেবল জোড়ার কাজ।

ইঞ্জিনিয়ারদের কথায়, “নদীর উপর ঝুলন্ত বকখালির সেতুর দু’পাশে কেবল জুড়তে সময় লেগেছিল ৪২ দিন। কিন্তু রেল লাইন ও মাটির সার্পোট থাকা মাঝেরহাটের জন্য কেবল জুড়তে ৩০ দিনের কম সময় লাগবে। চেষ্টা হচ্ছে পুজোর আগেই কেবলের কাজ শেষ করার।”

মাঝেরহাট সেতু ভাঙার পর থেকে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে মাঝেরহাট, তারাতলা, বেহালা, পর্ণশ্রী, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সরশুনা, ঠাকুরপুকুর, জোকা, বিষ্ণপুর, আমতলা দিয়ে যাঁরা নিয়মিত আলিপুর ও ধর্মতলা যাতায়াত করেন, তাঁদের।

এই সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকার নিউ আলিপুরের কাছে একটি বেইলি ব্রিজ এবং টালিনালার উপরে মহাবীরতলা এবং হরিদেবপুরে আরও দু’টি নতুন সেতু চালু করেছে। তাতেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখন পুজোর আগে নতুন এই সেতুর কাজ শেষ করতে চাইছে রাজ্য।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।